২৫/১. অধ্যায়ঃ

জিহাদ ওয়াজিব হওয়া

যাকাত অস্বীকার ও হাদিস যাচাই: বর্ণনার ত্রুটি থেকে শিক্ষা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩০৯৪

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِمْرَانُ أَبُو الْعَوَّامِ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ارْتَدَّتْ الْعَرَبُ، قَالَ عُمَرُ: يَا أَبَا بَكْرٍ، كَيْفَ تُقَاتِلُ الْعَرَبَ؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ» وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا مِمَّا كَانُوا يُعْطُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهِ قَالَ عُمَرُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فَلَمَّا رَأَيْتُ رَأْيَ أَبِي بَكْرٍ قَدْ شُرِحَ، عَلِمْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ» قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، لَيْسَ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ، وَهَذَا الْحَدِيثُ خَطَأٌ، وَالَّذِي قَبْلَهُ الصَّوَابُ، حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ»

আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত হলে আরবের কতিপয় লোক মুরতাদ হয়ে গেল। উমর (রাঃ) বললেন: হে আবু বকর! আপনি কিরূপে আরবের লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন?আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল’ এ কথার সাক্ষ্য দেয়া পর্যন্ত এবং সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় না করা পর্যন্ত আমি যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহর কসম! তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যা প্রদান করত, তা থেকে একটি বকরির বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।উমর (রাঃ) বলেন: তখন আমি উপলব্ধি করলাম, আল্লাহ তা'আলা তাঁর অন্তর উন্মুক্ত করেছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর অভিমতই সঠিক।আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী ‘ইমরান আল কত্তান (রহঃ)-এর এ বর্ণনায় ত্রুটি আছে। তিনি রাবী হিসেবে শক্তিশালী নন। এর পূর্বে বর্ণিত যুহরী (রহঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রহঃ) থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি বিশুদ্ধ।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩০৯৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওফাতের পর আরবের কিছু লোক মুরতাদ হওয়ার কথা এসেছে। উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। আবু বকর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার আলোকে বলেন, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি আল্লাহর রাসূল—এ সাক্ষ্য, সালাত কায়েম এবং যাকাত আদায় না করা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধের নির্দেশের কথা বুঝেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যা দিত, তার একটি বকরির বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করলে তিনি অবস্থান নেবেন। তবে এই বর্ণনার শেষে আবু আবদুর রহমান (রহঃ) গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান আল-কত্তান শক্তিশালী নন এবং এই বর্ণনায় ত্রুটি আছে; আগের যুহরী থেকে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনাই সঠিক। তাই এই হাদিস শুধু যাকাতের গুরুত্ব নয়, হাদিস যাচাইয়ের সতর্কতাও শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যাকাত আদায়কে আবু বকর (রাঃ) ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ হক হিসেবে দেখেছেন।
  • সালাত ও যাকাতের বিষয় একসাথে উল্লেখ হয়েছে।
  • বর্ণনার শেষে রাবীর দুর্বলতা ও ত্রুটির কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
  • হাদিস বুঝতে সনদের বিশুদ্ধতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন