২৫/১. অধ্যায়ঃ
জিহাদ ওয়াজিব হওয়া
সালাত ও যাকাতের সম্পর্ক: আবু বকর (রাঃ)-এর ফয়সালা
সুনানে নাসাঈ : ৩০৯২
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩০৯২
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُغِيرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ح وَأَنْبَأَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ عُمَرُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: يَا أَبَا بَكْرٍ، كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، إِلَّا بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ: «فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ» وَاللَّفْظُ لِأَحْمَدَ "
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রাঃ)-কে খলীফা নিযুক্ত করা হলে আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। তখন উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন: হে আবু বকর! আপনি এমন লোকেদের সাথে কিভাবে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: লোকেরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত সত্য কোনো ইলাহ নেই)। যতক্ষণ না বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। ফলে যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামের হক ছাড়া। আর তার হিসাব আল্লাহর কাছেই।আবু বকর (রাঃ) বললেন: আল্লাহর কসম! আমি সেই ব্যক্তির সাথে জিহাদ করব, যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর কসম! যদি তারা আমাকে একটি ছাগল ছানাও দিতে অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিত, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব।উমর (রাঃ) বললেন: আল্লাহর কসম! এ আর কিছু না। এতে আমি বুঝলাম যে, আল্লাহ তা’আলা আবু বকরের অন্তর জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আরো অনুধাবন করলাম যে, তাঁর ফায়সালাই যথার্থ। এ বর্ণনার শব্দ, ভাষা আহমাদ (রহঃ)-এর।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩০৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার একই মূল বিষয় আরো পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রাঃ) খলীফা হন এবং আরবের কিছু লোক কুফরী অবস্থায় ফিরে যায়। উমর (রাঃ) প্রশ্ন করেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললে জান-মালের নিরাপত্তার কথা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে যুদ্ধ হবে? আবু বকর (রাঃ) বলেন, তিনি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন, যে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কারণ যাকাত মালের হক। যদি তারা সেই ছোট ছাগলছানাও দিতে অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দিত, তিনি তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। উমর (রাঃ) পরে বুঝলেন, আল্লাহ আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর এই সিদ্ধান্তের জন্য খুলে দিয়েছেন। এই হাদিসে যাকাতের গুরুত্ব, খলীফার দায়িত্ব এবং সাহাবীদের সত্য গ্রহণের মানসিকতা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত অস্বীকারকে আবু বকর (রাঃ) গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
- সালাত ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আমল হিসেবে একসাথে এসেছে।
- যাকাতকে মালের হক বলা হয়েছে।
- উমর (রাঃ) সত্য বুঝলে নিজের মত বদলেছেন।
