২৪/২৩০. অধ্যায়ঃ
কঙ্কর মারার পর দু'আ
জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের নিয়ম: সাত কঙ্কর, তাকবীর ও দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩০৮৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩০৮৩
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: بَلَغَنَا «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَمَى الْجَمْرَةَ الَّتِي تَلِي الْمَنْحَرَ - مَنْحَرَ مِنًى - رَمَاهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ، ثُمَّ تَقَدَّمَ أَمَامَهَا، فَوَقَفَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ رَافِعًا يَدَيْهِ، يَدْعُو يُطِيلُ الْوُقُوفَ، ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الثَّانِيَةَ فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ، يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ، ثُمَّ يَنْحَدِرُ ذَاتَ الشِّمَالِ، فَيَقِفُ مُسْتَقْبِلَ الْبَيْتِ، رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو، ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الْعَقَبَةِ، فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ، وَلَا يَقِفُ عِنْدَهَا» قَالَ الزُّهْرِيُّ: سَمِعْتُ سَالِمًا، يُحَدِّثُ بِهَذَا، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ»
যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মিনায় যবেহ করার স্থানের নিকটস্থ জামরাতে সাতটি কঙ্কর মারেন তখন তিনি প্রত্যেক কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলেন। তারপর তিনি (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে এবং ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর দু’হাত তুলে দীর্ঘক্ষণ দোয়া করেন।তারপর তিনি (ﷺ) দ্বিতীয় জামরাতে গিয়ে সাতটি কঙ্কর মারেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলেন। এরপর তিনি (ﷺ) বামে কিছুটা সরে গিয়ে বায়তুল্লাহমুখী দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করেন। এরপর ‘আকাবার নিকটস্থ জামরাতে গিয়ে সাতটি কঙ্কর মারেন। কিন্তু এখানে তিনি দাঁড়াননি। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি সালিম (রহঃ)-কে এ হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি তাঁর পিতার মাধ্যমে। আর তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। আর ইবনু উমর (রাঃ) এভাবে আমল করতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩০৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের নিয়ম। বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মিনার যবেহের স্থানের কাছের জামরাতে সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর তিনি সামনে এগিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন, দু’হাত তুলতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। দ্বিতীয় জামরাতেও তিনি সাতটি কঙ্কর মারতেন, প্রতিবার তাকবীর বলতেন, তারপর বামে সরে বায়তুল্লাহমুখী হয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করতেন। এরপর আকাবার নিকটস্থ জামরাতে সাতটি কঙ্কর মারতেন, কিন্তু সেখানে দাঁড়াতেন না। এই হাদিসে কোনো বাড়তি ব্যাখ্যার দরকার নেই; আমলের ধাপগুলো খুব পরিষ্কার। হজ্জের কঙ্কর নিক্ষেপ শুধু কঙ্কর ছোড়া নয়, বরং তাকবীর, কিবলামুখী হওয়া এবং দোয়ার সুন্দর সমন্বয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিটি জামরায় সাতটি করে কঙ্কর মারার কথা এসেছে।
- প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলা নববী আমল।
- প্রথম ও দ্বিতীয় জামরার পর কিবলামুখী হয়ে দোয়ার বর্ণনা আছে।
- আকাবার জামরায় কঙ্কর মারার পর দাঁড়ানোর কথা এই বর্ণনায় নেই।
