১/১৯২. অধ্যায়ঃ
যে পশুর গোস্ত খাওয়া হালাল তার পেটের গোবর কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে
সালাতে কষ্টের সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ধৈর্য ও দুআ
সুনানে নাসাঈ : ৩০৭
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩০৭
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيٌّ وَهُوَ ابْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ فِي بَيْتِ الْمَالِ قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ وَمَلَأٌ مِنْ قُرَيْشٍ جُلُوسٌ وَقَدْ نَحَرُوا جَزُورًا فَقَالَ بَعْضُهُمْ: أَيُّكُمْ يَأْخُذُ هَذَا الْفَرْثَ بِدَمِهِ، ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى يَضَعَ وَجْهَهُ سَاجِدًا فَيَضَعُهُ؟ - يَعْنِي عَلَى ظَهْرِهِ - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَانْبَعَثَ أَشْقَاهَا فَأَخَذَ الْفَرْثَ فَذَهَبَ بِهِ، ثُمَّ أَمْهَلَهُ، فَلَمَّا خَرَّ سَاجِدًا وَضَعَهُ عَلَى ظَهْرِهِ، فَأُخْبِرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ جَارِيَةٌ، فَجَاءَتْ تَسْعَى فَأَخَذَتْهُ مِنْ ظَهْرِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ» حَتَّى عَدَّ سَبْعَةً مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَوَالَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ لَقَدْ رَأَيْتُهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ فِي قَلِيبٍ وَاحِدٍ
আমর ইব্ন মায়মুন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) আমাদের কাছে বায়তুল মাল সম্পর্কিত একটি হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর কাছে সালাত আদায় করছিলেন। তখন একদল কুরাইশ সেখানে বসা ছিল, তারা একটি উট যবেহ করেছিল। তাদের একজন বলল, তোমাদের মধ্যে কে এর রক্ত মাখা উদরস্থিত গোবর (নাড়িভুঁড়িসহ) নিয়ে তার কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারবে, তারপর যখন সে সিজদায় যাবে তখন তা তাঁর পিঠের উপর চাপিয়ে দিবে?আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তাদের সবচাইতে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি প্রস্তুত হল এবং গোবরযুক্ত নাড়িভুঁড়ি হাতে নিয়ে অপেক্ষায় রইল, যখন তিনি সিজদায় গেলেন, তখন তা তাঁর পিঠের উপর ফেলে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এ সংবাদপ্রাপ্ত হলেন, এ সময় তিনি ছিলেন অল্পবয়স্কা। তিনি দৌড়ে এলেন এবং তাঁর পিঠ হতে তা সরিয়ে ফেললেন।যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! কুরাইশকে ধর। হে আল্লাহ! আবু জাহল ইবনু হিশাম, শায়বাহ ইবনু রবীআহ, উতবাহ ইবনু রবীআহ, উকবাহ ইবনু আবু মুয়াইত্ব প্রমুখকে পাকড়াও কর। এভাবে তিনি কুরাইশদের সাতজনের নাম বললেন। আবদুল্লাহ বলেন, সে আল্লাহর কসম! যিনি তাঁর উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাদের সকলকে বদরের দিন একই গর্তে মৃত অবস্থায় পতিত দেখেছি।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) একটি কঠিন ঘটনা বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বায়তুল্লাহর কাছে সালাত আদায় করছিলেন। তখন কিছু কুরাইশ সেখানে বসে ছিল। তারা একটি উট যবেহ করেছিল এবং তাদের একজন প্রস্তাব দিল যে, রক্তমাখা নাড়িভুঁড়ি নিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সিজদায় গেলে তাঁর পিঠে চাপিয়ে দেবে। তাদের এক নিকৃষ্ট ব্যক্তি তা করল। তখন ফাতিমা (রাঃ) দৌড়ে এসে তাঁর পিঠ থেকে তা সরিয়ে দিলেন। সালাত শেষ করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুরাইশদের বিরুদ্ধে দুআ করলেন এবং কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, বদরের দিন তিনি তাদের মৃত অবস্থায় দেখেছেন। এই হাদিসে সালাতের মধ্যে নবীর ধৈর্য, পরিবারের সহায়তা এবং জুলুমের পরিণতির কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাতের অবস্থায় কঠিন অপমান সহ্য করেছেন।
- ফাতিমা (রাঃ) বাবার কষ্ট দেখে দ্রুত সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন।
- সালাত শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুআ করেছেন।
- জুলুমকারীদের পরিণতি নিয়ে হাদিসে বদরের ঘটনার উল্লেখ এসেছে।
