২৪/১৯৩. অধ্যায়ঃ
সে ['আরাফার দিন তালবিয়াহ্ পাঠ করা
আরাফার দিনে তালবিয়া ও তাকবির: সহনশীলতার সুন্দর শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩০০১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩০০১
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسٍ، غَدَاةَ عَرَفَةَ: مَا تَقُولُ فِي التَّلْبِيَةِ فِي هَذَا الْيَوْمِ؟ قَالَ: «سِرْتُ هَذَا الْمَسِيرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ، وَكَانَ مِنْهُمُ الْمُهِلُّ، وَمِنْهُمُ الْمُكَبِّرُ، فَلَا يُنْكِرُ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى صَاحِبِهِ»
মুহাম্মাদ ইব্ন আবূ বকর আস-সাকাফী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর আস সাকাফী (রহঃ) বলেন, আমি আরাফার ভোরে আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম : এই দিনে তালবিয়ায় আপনি কী বলতেন?তিনি বললেন : এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এবং তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে সফর করি। তাঁদের মধ্যে কেউ তালবিয়া পাঠ করতেন, আর কেউ তাকবির বলতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ তার সঙ্গীর কাজে আপত্তি করত না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩০০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরাফার দিনের একটি সহজ কিন্তু গভীর শিক্ষা এসেছে। আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আরাফার দিনে তালবিয়ার ব্যাপারে তিনি কী বলতেন। তিনি জানান, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীদের সঙ্গে সফরে ছিলেন। তখন কারও মুখে ছিল তালবিয়া, আবার কেউ তাকবির বলতেন। কিন্তু কেউ অন্যের ওপর আপত্তি করতেন না। এখান থেকে বোঝা যায়, হজ্জের আমলে যেখানে বৈধভাবে একাধিক পদ্ধতি দেখা যায়, সেখানে অযথা ঝগড়া করা ঠিক নয়। আরাফার দিনের আমল, তালবিয়া পাঠ, তাকবির বলা এবং সফরের আদব—সবকিছুতেই শান্ত মন দরকার। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, সুন্নাহর পথে থাকলেও মানুষের সঙ্গে আচরণ নরম হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার দিনে তালবিয়া ও তাকবির—দুটিই সাহাবীদের মাঝে পাওয়া গেছে।
- সাহাবীরা একে অন্যের বৈধ আমলে আপত্তি করতেন না।
- হজ্জের মতো বড় ইবাদতে ধৈর্য ও সহনশীলতা জরুরি।
- সুন্নাহ পালনের সঙ্গে ভালো আচরণও দরকার।
