১/১৮২. অধ্যায়ঃ
যে লোক হায়য অবস্থায় আল্লাহর নিষেধ সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও সহবাস করে তার ওপর কি ওয়াজিব হবে?
হায়েজ অবস্থায় সহবাসের কাফফারা: এক দীনার বা অর্ধ দীনার সদাকা
সুনানে নাসাঈ : ২৮৯
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২৮৯
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي الرَّجُلِ يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নাবী (ﷺ) হতে ঐ লোক সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে লোক হায়জ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে সে এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার সদাকা করে।
[২] সে যুগে দীনার স্বর্ণমুদ্রাকে বলা হত। এ যুগেও কোন কোন দেশের মুদ্রাকে দীনার বলা হয়।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে, সে এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার সদাকা করবে। হাদিসটি হায়েজের সময় দাম্পত্য সীমা মানার গুরুত্ব বোঝায়। আগের বর্ণনাগুলোতে সহবাস ছাড়া স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতার কথা এসেছে, কিন্তু এখানে সহবাসের বিষয়ে আলাদা নির্দেশ এসেছে। তাই হায়েজ অবস্থায় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না—এটি স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, আল্লাহর বিধান জানা অবস্থায় তা ভাঙলে বিষয়টি হালকা করে দেখা উচিত নয়। সদাকার নির্দেশ এখানে সংশোধন, সতর্কতা এবং দায়িত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে বিস্তারিত ফিকহি প্রয়োগে ইসলামী স্কলারদের মতামত অনুসরণ করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব এই হাদিসে স্পষ্ট।
- ভুল হলে সেটিকে হালকা না নিয়ে সংশোধনের পথে আসা উচিত।
- সদাকার নির্দেশ দায়িত্ববোধ ও সতর্কতার শিক্ষা দেয়।
- হায়েজের বিধান বুঝে দাম্পত্য জীবনে সীমা মানা জরুরি।
