১/১৮১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণী-"তারা তোমাকে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে"-এর ব্যাখ্যা
হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীকে দূরে নয়: খাওয়া, পান করা ও এক ঘরে থাকার হাদিস
সুনানে নাসাঈ : ২৮৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২৮৮
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِثٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ مِنْهُمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَلَمْ يُشَارِبُوهُنَّ وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ، فَسَأَلُوا نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: " {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة: 222]، فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَيُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ، وَأَنْ يَصْنَعُوا بِهِنَّ كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلَا الْجِمَاعَ "
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহুদীদের স্ত্রীরা যখন ঋতুমতী হত তখন তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না; তাদের সাথে উঠাবসা করত না এবং তারা ঘরে তাদের সাথে একত্রে থাকত না।অতএব, সাহাবীগণ নবী (ﷺ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা-وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى(সূরা আল বাকারা ২ : ২২২)আয়াতটি নাযিল করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের আদেশ করলেন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সাথে পানাহার করে, তাদের সাথে উঠাবসা করে, ঘরে একত্রে বসবাস করে এবং তাদের সঙ্গে সহবাস ছাড়া আর সব কিছু করা হালাল মনে করে।
[১] লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল। তা অশূচি। (২ : ২২২)
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ইয়াহুদীরা তাদের স্ত্রীদের হায়েজ হলে তাদের সঙ্গে খাওয়া-পানাহার করত না, উঠাবসা করত না এবং ঘরে একত্রে থাকত না। সাহাবীরা এ বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ সূরা আল-বাকারার ২২২ নম্বর আয়াত নাযিল করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দেন, স্ত্রীদের সঙ্গে খাওয়া-পান করা, উঠাবসা করা এবং ঘরে একত্রে থাকা যাবে; সহবাস ছাড়া সব কিছু করা যাবে। এই হাদিস হায়েজের বিধান সম্পর্কে খুব পরিষ্কার। ইসলাম নারীর হায়েজকে ঘৃণার কারণ বানায়নি। বরং নির্দিষ্ট সীমা দিয়েছে এবং স্বাভাবিক পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখতে শিখিয়েছে। তাই হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীকে আলাদা করে অপমান করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে খাওয়া-পান করা জায়েজ বলা হয়েছে।
- ঋতুমতী স্ত্রীকে ঘর থেকে বা পারিবারিক মেলামেশা থেকে দূরে রাখা হয়নি।
- সহবাস ছাড়া স্বাভাবিক দাম্পত্য আচরণের অনুমতি এসেছে।
- ইসলাম হায়েজের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক শিক্ষা দিয়েছে।
