২৪/১০২. অধ্যায়ঃ
যে শত্রু কর্তৃক অবরুদ্ধ হয়
হজ্জে বাধা হলে করণীয়: হালাল হওয়া ও পরের বছর হজ্জ
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৮৬১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৮৬১
أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ الصَّوَّافِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ كُسِرَ أَوْ عَرِجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ أُخْرَى» وَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَأَبَا هُرَيْرَةَ، فَقَالَا: صَدَقَ، وَقَالَ شُعَيْبٌ، فِي حَدِيثِهِ: «وَعَلَيْهِ الْحَجُّ مِنْ قَابِلٍ»
হাজ্জাজ ইবন আমর হতে বর্ণিতঃ
হাজ্জাজ ইবন আমর (রাঃ) সূত্রে নবি (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন: যে খোঁড়া হয়েছে, অথবা যার পা ভেঙেছে, সে হালাল হয়ে গেছে এবং তার ওপর পরের বছর অন্য এক হজ্জ ফরজ হবে। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলে তাঁরা বললেন: তিনি সত্যই বলেছেন। আর শু‘আইব (রাঃ) তাঁর বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন: তাঁর ওপর পরবর্তী বছর হজ্জ করা ওয়াজিব হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের পথে বড় শারীরিক বাধা হলে কী হবে, তা সংক্ষেপে বলা হয়েছে। নবি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ খোঁড়া হয়ে গেলে বা তার পা ভেঙে গেলে সে হালাল হয়ে গেছে। অর্থাৎ এমন অবস্থায় তার জন্য আগের মতো ইহরামের বিধান ধরে রাখা সম্ভব থাকে না। তবে হাদিসে এটাও বলা হয়েছে যে তার ওপর পরের বছর আরেকটি হজ্জ ফরজ বা ওয়াজিব হবে। এখানে হজ্জে বাধা হলে করণীয় বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেছেন, তিনি সত্য বলেছেন। তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, হজ্জের সফরে অসুস্থতা বা আঘাতের মতো বাস্তব সমস্যা হলে শরীয়তে তার জন্য পথ রাখা হয়েছে, কিন্তু বাকি দায়িত্বও ভুলে যাওয়া যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের পথে পা ভাঙা বা খোঁড়া হয়ে যাওয়ার মতো বাধা এলে হালাল হওয়ার সুযোগ আছে।
- এমন বাধার পর পরের বছর আরেকটি হজ্জ করার দায়িত্ব থাকে।
- সাহাবিগণ এ বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বোঝা উচিত।
- ইবাদতে অক্ষমতা এলে শরীয়ত সহজ পথ দেয়, তবে দায়িত্ব পুরোপুরি বাদ দেয় না।
