২৪/৮০. অধ্যায়ঃ
মুহরিম ব্যক্তির হাসি দেখে যদি কোনো হালাল ব্যক্তি শিকার দেখে এবং তা শিকার করে তাহলে মুহরিম ব্যক্তি তা আহার করবে কিনা?
মুহরিমের জন্য অন্যের শিকার খাওয়া: আবু কাতাদাহ (রাঃ)-এর ঘটনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৮২৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৮২৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: انْطَلَقَ أَبِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ، فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ يُحْرِمْ فَبَيْنَمَا أَنَا مَعَ أَصْحَابِي ضَحِكَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا حِمَارُ وَحْشٍ فَطَعَنْتُهُ فَاسْتَعَنْتُهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُعِينُونِي فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهِ، وَخَشِينَا أَنْ نُقْتَطَعَ، فَطَلَبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرَفِّعُ فَرَسِي، شَأْوًا وَأَسِيرُ شَأْوًا، فَلَقِيتُ رَجُلًا مِنْ غِفَارٍ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَقُلْتُ: أَيْنَ تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: تَرَكْتُهُ وَهُوَ قَائِلٌ بِالسُّقْيَا فَلَحِقْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَصْحَابَكَ يَقْرَءُونَ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ، وَإِنَّهُمْ قَدْ خَشُوا أَنْ يُقْتَطَعُوا دُونَكَ، فَانْتَظِرْهُمْ، فَانْتَظَرَهُمْ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حِمَارَ وَحْشٍ، وَعِنْدِي مِنْهُ، فَقَالَ لِلْقَوْمِ: «كُلُوا»، وَهُمْ مُحْرِمُونَ
আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুদায়বিয়ার বছর আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রওনা হলেন। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন। কিন্তু তিনি (আবু কাতাদাহ) ইহরাম বাঁধলেন না। আমি আমার সাথীদের সাথে ছিলাম। এমন সময় তাঁরা পরস্পরে তাকিয়ে হেসে উঠলেন। আমি একটি বন্য গাধা লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলাম। [বর্শা নিক্ষেপ করতে] আমি তাঁদের সাহায্য চাইলে, তাঁরা তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা তার গোশত খেলাম। আমরা কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করলাম।তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খোঁজে ঘোড়াকে কখনো অতি দ্রুত এবং কখনো স্বাভাবিকভাবে দৌড়ালাম। মধ্যরাতে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কোথায় দেখে এসেছ? সে বলল: সুকুইয়া নামক স্থানে দুপুরে বিশ্রামরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। পরে তাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় করছে। অতএব আপনি দয়া করে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। তিনি (ﷺ) তাঁদের জন্য অপেক্ষা করলেন। আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি বন্য গাধা ধরেছি। তার কিছু অংশ আমার কাছে আছে। তিনি কাফেলাকে লক্ষ্য করে বললেন : তোমরা তা আহার কর, অথচ তারা তখন মুহরিম ছিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮২৪-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: শিকার বিধান। এই হাদিসে হুদায়বিয়ার বছরের একটি ঘটনা এসেছে। সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধেন, কিন্তু আবু কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধেননি। তিনি একটি বন্য গাধা দেখেন এবং বর্শা দিয়ে শিকার করেন। তিনি সঙ্গীদের সাহায্য চাইলে তারা সাহায্য করতে অস্বীকার করেন। পরে তারা গোশত খায়। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি জানানো হলে তিনি صلى الله عليه وسلم কাফেলাকে বলেন, “তোমরা তা আহার কর”, অথচ তারা তখন মুহরিম ছিল। এই হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিকারকারী মুহরিম ছিলেন না এবং মুহরিমরা শিকারে সাহায্য করেননি। তাই “মুহরিমের জন্য অন্যের শিকার খাওয়া” বিষয়ে এই বর্ণনা খুব দরকারি। হাদিসটি ইহরামের আদব, সতর্কতা এবং রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সরাসরি নির্দেশ—সবই একসঙ্গে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহরিমরা শিকারে সাহায্য না করায় তারা গোশত খাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
- আবু কাতাদাহ (রাঃ) নিজে মুহরিম ছিলেন না, তাই ঘটনার বিধান আলাদা।
- সন্দেহ হলে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করা সাহাবীদের সুন্দর অভ্যাস ছিল।
- ইহরামের বিধানে ঘটনার শর্ত বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
