১/১৭৮. অধ্যায়ঃ
ঋতুমতির ভুক্তাবশেষ খাওয়া
ঋতুমতী নারীর পবিত্রতা: একই পাত্রে পান করার হাদিসের সহজ শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৮১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৮১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنَاوِلُنِي الْإِنَاءَ فَأَشْرَبُ مِنْهُ وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ أُعْطِيهِ فَيَتَحَرَّى مَوْضِعَ فَمِي , فَيَضَعُهُ عَلَى فِيهِ»
মিকদাম ইব্ন শুরায়হ হতে বর্ণিতঃ
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পাত্র দিতেন আমি তা থেকে পান করতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী। তারপর আমি তাঁকে সে পাত্র দিতাম আর তিনি আমার পান করার জায়গা খুঁজে সে জায়গাতেই তার মুখে রাখতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) খুব সহজ একটি ঘরোয়া ঘটনা বলেছেন। তিনি ঋতুমতী অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতেন, তারপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সেই পাত্র নিতেন এবং তাঁর পান করার জায়গা খুঁজে সেখানেই মুখ রাখতেন। এর মূল শিক্ষা হলো, হায়েজ অবস্থায় নারী নিজে নাপাক বা অশুচি হয়ে যান না। তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার, খাবার-পানীয় ভাগ করে নেওয়া এবং ভালোবাসা দেখানো ইসলামী আদবের অংশ। এখানে নবী صلى الله عليه وسلم শুধু অনুমতি দেননি, বরং নিজের আচরণে কোমলতা দেখিয়েছেন। তাই হায়েজের বিধান বুঝতে গিয়ে নারীকে দূরে রাখা, অপমান করা বা অকারণে কঠোর আচরণ করা এই হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে মেলে না। পরিচ্ছন্নতা মানা হবে, কিন্তু সম্পর্কের মমতা নষ্ট করা হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুমতী নারীকে খাবার-পানীয়ের ক্ষেত্রে আলাদা করে দূরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়।
- হায়েজ অবস্থায় নারীর শরীর নিজে অশুচি নয়; বিধানটি নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
- দাম্পত্য জীবনে কোমলতা, ভালোবাসা ও স্বাভাবিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঘরের ছোট কাজেও ভালো আচরণের বাস্তব শিক্ষা দিয়েছেন।
