২৪/৭২. অধ্যায়ঃ
কুরবানীর জন্তুকে কিলাদা পরানোর মাধ্যমে কি ইহ্রাম বাঁধা ওয়াজিব হয়ে যায়?
হাদয়ির কিলাদা, পরিহার না করা ও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৭৯৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৯৫
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «كُنْتُ أَفْتِلُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَا يَجْتَنِبُ شَيْئًا وَلَا نَعْلَمُ الْحَجَّ يُحِلُّهُ، إِلَّا الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদয়ির (কুরবানি জন্তুর) কিলাদা বানিয়ে দিতাম। তারপর তিনি (ﷺ) কিছুই পরিহার করতেন না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমাদের জানা নেই আর বায়তুল্লাহর তওয়াফ ছাড়া অন্য কিছু হজ্জ (অর্থাৎ ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ বিষয়)-কে হালাল করে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদয়ির কিলাদা বানিয়ে দিতেন। এরপর তিনি কিছুই পরিহার করতেন না। বর্ণনার শেষে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তাঁদের জানা নেই যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া অন্য কিছু হজ্জের নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল করে। এখানে দুটি বিষয় এসেছে—হাদয়ির কিলাদা বানানো এবং তাওয়াফের সঙ্গে হজ্জের হালাল হওয়ার সম্পর্ক। “বায়তুল্লাহর তাওয়াফ”, “হাদয়ির কিলাদা” ও “মুহরিমের নিষিদ্ধ বিষয়” এই হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার, কারণ হাদিসটি নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলেছে। তাই আমরা শুধু বর্ণিত অর্থই তুলে ধরি, বাড়তি দাবি করি না। পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য সতর্কতা হলো, হাদিসে যে কাজ ও যে শব্দ এসেছে, ব্যাখ্যায় ঠিক সেই সীমা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ) হাদয়ির কিলাদা বানাতেন।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এরপর কিছু পরিহার করতেন না—এটি বর্ণনায় এসেছে।
- বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সঙ্গে হজ্জের হালাল হওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে।
- হাদিসে যা আছে, তার বাইরে নতুন শর্ত বলা উচিত নয়।
