২৪/৬৮. অধ্যায়ঃ
উটকে মালা পরানো
হাদয়ির কিলাদা: পাঠালেও হালাল জিনিস হারাম হয়নি
সুনানে নাসাঈ : ২৭৮৩
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২৭৮৩
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَاسِمٌ وَهُوَ ابْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَفْلَحُ، عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «فَتَلْتُ قَلَائِدَ بُدْنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ، ثُمَّ قَلَّدَهَا، وَأَشْعَرَهَا وَوَجَّهَهَا إِلَى الْبَيْتِ، وَبَعَثَ بِهَا، وَأَقَامَ فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَيْءٌ كَانَ لَهُ حَلَالًا»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিয়র উটের মালা পাকিয়েছি। তারপর তিনি সেগুলোকে কিলাদা পরিয়ে ইশআর করলেন এবং তা বায়তুল্লাহ অভিমুখী করে পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি অবস্থান করলেন, অথচ যে সব বস্তু তাঁর জন্য হালাল ছিল, তার কোনোটাই তাঁর জন্য হারাম করেননি।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদয়ির উটের মালা পাকিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেগুলোকে কিলাদা পরান, ইশআর করেন এবং বায়তুল্লাহ অভিমুখে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তিনি নিজে অবস্থান করেন এবং তাঁর জন্য আগে যা হালাল ছিল, তা হারাম করেননি। এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো, হাদয়ি পাঠানো ও কিলাদা পরানো এক বিষয়, আর নিজে ইহরামের অবস্থায় যাওয়া আরেক বিষয়। “হাদয়ির কিলাদা” ও “কুরবানীর পশুর কিলাদা” নিয়ে যারা খোঁজ করেন, তাদের জন্য হাদিসটি খুব প্রাসঙ্গিক। তবে এখানে শুধু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর এই নির্দিষ্ট কাজটি বলা হয়েছে; এর বাইরে অন্য ঘটনা মেলানো উচিত নয়। পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য সতর্কতা হলো, হাদিসে যে কাজ ও যে শব্দ এসেছে, ব্যাখ্যায় ঠিক সেই সীমা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদয়ির উটের জন্য কিলাদা পাকানো হয়েছে।
- হাদয়ি পাঠানোর পরও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের হালাল বিষয়গুলো হারাম করেননি।
- ইশআর ও কিলাদা হাদয়ি পশুর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।
- হাদিস থেকে বোঝা যায়, কাজের অবস্থা বুঝে কথা বলা দরকার।
