২৩/৮২. অধ্যায়ঃ
আত্মীয়-স্বজনকে দান করা
আত্মীয়কে দান: সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫৮২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫৮২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعَلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الصَّدَقَةَ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَعَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ»
সালমান ইব্ন আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেন: মিসকিনকে দান করার মধ্যে শুধু সদাকা-এর সওয়াব রয়েছে। আর আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মধ্যে রয়েছে দুটি সওয়াব- দান করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আত্মীয়কে দান। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব সহজভাবে দানের একটি সুন্দর দিক বুঝিয়েছেন। মিসকীনকে দান করলে সেটি সদকা হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু কোনো অভাবী আত্মীয়কে দান করলে সেখানে দুটি ভালো কাজ একসঙ্গে হয়। একদিকে দানের কাজ হয়, অন্যদিকে আত্মীয়তার সম্পর্কও বজায় থাকে। তাই ইসলাম শুধু দূরের মানুষের অভাব দেখার কথা বলে না; কাছের মানুষ, আত্মীয়-স্বজনের দিকেও খেয়াল রাখতে শেখায়। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, দান করার সময় কার প্রয়োজন বেশি এবং কার সঙ্গে সম্পর্কের হক আছে, তা বিবেচনা করা ভালো। আত্মীয়কে দান মানে শুধু টাকা দেওয়া নয়; বরং সম্পর্ককে সুন্দর রাখা এবং অভাবের সময় পাশে দাঁড়ানোও এর মধ্যে পড়ে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিসকীনকে দান করা সদকার অন্তর্ভুক্ত।
- অভাবী আত্মীয়কে দান করলে সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব একসঙ্গে হয়।
- দান করার সময় নিজের কাছের অভাবী মানুষদের কথাও ভাবা উচিত।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু কথায় নয়, প্রয়োজনে সহায়তার মাধ্যমেও রক্ষা করা যায়।
