২৩/৪৯. অধ্যায়ঃ
অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির দান
সর্বোত্তম আমল: ঈমান, সালাত, সদকা ও হিজরতের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫২৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫২৬
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ الْخَثْعَمِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ، وَجِهَادٌ لَا غُلُولَ فِيهِ، وَحَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ» قِيلَ: فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُولُ الْقُنُوتِ» قِيلَ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جُهْدُ الْمُقِلِّ» قِيلَ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ هَجَرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ» قِيلَ: فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ، وَنَفْسِهِ» قِيلَ: فَأَيُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ؟ قَالَ: «مَنْ أُهَرِيقَ دَمُهُ، وَعُقِرَ جَوَادُهُ»
আবদুল্লাহ্ ইব্ন হুবশী খাছআমী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন, এমন ঈমান যাতে কোনো সংশয় নেই, খিয়ানাতবিহীন জিহাদ এবং মাবরূর হজ্জ। জিজ্ঞেস করা হল, সর্বোত্তম সালাত কোনটি? তিনি বললেন, দীর্ঘ ক্বিরাআত [বিশিষ্ট সালাত]। জিজ্ঞেস করা হল যে, সর্বোত্তম সদাকা কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন, অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির দান। জিজ্ঞেস করা হল যে, সর্বোত্তম হিজরত কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা বর্জন করা। প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন, যে মুশরিকদের বিরুদ্ধে নিজের জানমাল নিয়ে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হল যে, সম্মানজনক নিহত হওয়া কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন, [আল্লাহর রাস্তায়] যার রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে এবং ঘোড়াকে হত্যা করা হয়েছে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সন্দেহহীন ঈমান, খিয়ানাতবিহীন জিহাদ এবং মাবরূর হজ্জের কথা বলেন। এরপর সর্বোত্তম সালাত সম্পর্কে তিনি দীর্ঘ কিরাআতবিশিষ্ট সালাতের কথা বলেন। সর্বোত্তম সদকা সম্পর্কে বলেন, অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির দান। এখানে দানের বড় শিক্ষা হলো, যার কাছে কম আছে, তার সামর্থ্য অনুযায়ী দানও মূল্যবান হতে পারে। হিজরত সম্পর্কে বলা হয়েছে, আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা বর্জন করা। তাই এই হাদিস শুধু বড় বড় ইবাদতের কথা নয়; নিজের ভেতরের সততা, নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজ করার কথাও শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্দেহহীন ঈমানকে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অভাবগ্রস্ত মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী দানকে মূল্যবান বলা হয়েছে।
- আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করাও হিজরতের অর্থে এসেছে।
- ইবাদত ও আমলে খিয়ানাত থেকে বাঁচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
