২২/৭৬. অধ্যায়ঃ
একদিন সওম রাখা এবং একদিন সওম না রাখা, আর এ প্রসঙ্গে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনায় রাবীদের শব্দ বর্ণনায় পার্থক্য উল্লেখ
ইবাদতে ভারসাম্য: ঘুম, সালাত, রোজা ও দাম্পত্য দায়িত্ব
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৯০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৯০
أَخْبَرَنَا أَبُو حَصِينٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: زَوَّجَنِي أَبِي امْرَأَةً فَجَاءَ يَزُورُهَا، فَقَالَ: كَيْفَ تَرَيْنَ بَعْلَكِ؟ فَقَالَتْ: نِعْمَ الرَّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لَا يَنَامُ اللَّيْلَ، وَلَا يُفْطِرُ النَّهَارَ فَوَقَعَ بِي، وَقَالَ: زَوَّجْتُكَ امْرَأَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَعَضَلْتَهَا، قَالَ: فَجَعَلْتُ لَا أَلْتَفِتُ إِلَى قَوْلِهِ مِمَّا أَرَى عِنْدِي مِنَ الْقُوَّةِ وَالِاجْتِهَادِ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَكِنِّي أَنَا أَقُومُ وَأَنَامُ، وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ، فَقُمْ وَنَمْ، وَصُمْ وَأَفْطِرْ» قَالَ: «صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ»، فَقُلْتُ: أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «صُمْ صَوْمَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا»، قُلْتُ: أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ»، ثُمَّ انْتَهَى إِلَى خَمْسَ عَشْرَةَ وَأَنَا أَقُولُ: أَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ
আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে এক মহিলার সাথে বিবাহ করালেন। অতঃপর তাকে দেখতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমার স্বামীকে কেমন পেয়েছ? সে বলল, খুবই ভাল লোক। তিনি রাতে ঘুমান না, দিনে সাওম ভঙ্গ করেন না। তখন আমার পিতা আমাকে তিরস্কার করে বললেন, আমি তোমাকে এক মুসলিম নারীর সাথে বিবাহ করালাম আর তুমি তাকে এভাবে দূরে রাখ। আমি নিজের মধ্যে যে শক্তি অনুভব করলাম তার কারণে আমার পিতার তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না। এ সংবাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি বললেন, আমি তো সালাতও আদায় করি আবার ঘুমিয়ে যাই, সাওম পালনও করি আবার তা ত্যাগও করি। তাই তুমিও সালাত আদায় কর, ঘুমাও, সাওম পালন কর এবং তা ত্যাগও কর।তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আমি তো এরও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ) এর সাওম পালন কর। একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ত্যাগ কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম কর। অতঃপর তিনি পনের দিনে খতম করার অনুমতি দিলে আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অনেক বেশি সামর্থ্য রাখি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) রাতে ঘুমাতেন না এবং দিনে রোজা ভাঙতেন না। তাঁর স্ত্রী এ কথা জানালে তাঁর পিতা তাকে তিরস্কার করেন, কারণ এতে দাম্পত্য সম্পর্ক দূরে সরে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি নিজে সালাত আদায় করেন আবার ঘুমান, সাওম রাখেন আবার ইফতারও করেন। তাই আবদুল্লাহকেও সালাত, ঘুম, রোজা ও বিরতির ভারসাম্য রাখতে বলা হয়। প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন রোজা, পরে দাউদ (আ.)-এর সাওমের কথা আসে। একই সঙ্গে কুরআন মাসে একবার খতম করার নির্দেশ এবং পরে পনের দিনে খতমের অনুমতির কথাও আছে। মূল শিক্ষা হলো, ইবাদত যেন শরীর ও পরিবারের দায়িত্বকে বাদ না দেয়। নিজের শক্তি বেশি মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে সালাতের পাশাপাশি ঘুমেরও স্থান আছে।
- নফল রোজায় সাওম ও ইফতারের দিন রাখা দরকার।
- অতিরিক্ত ইবাদতের কারণে দাম্পত্য দায়িত্ব উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
- কুরআন তিলাওয়াতেও সামর্থ্য ও ভারসাম্য বিবেচনা করা হয়েছে।
