২২/৭৬. অধ্যায়ঃ
একদিন সওম রাখা এবং একদিন সওম না রাখা, আর এ প্রসঙ্গে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনায় রাবীদের শব্দ বর্ণনায় পার্থক্য উল্লেখ
দাম্পত্য দায়িত্ব ও নফল রোজা: দাউদ (আ.)-এর সাওম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৮৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৮৯
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: أَنْكَحَنِي أَبِي امْرَأَةً ذَاتَ حَسَبٍ، فَكَانَ يَأْتِيهَا فَيَسْأَلُهَا عَنْ بَعْلِهَا، فَقَالَتْ: نِعْمَ الرَّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يَطَأْ لَنَا فِرَاشًا، وَلَمْ يُفَتِّشْ لَنَا كَنَفًا مُنْذُ أَتَيْنَاهُ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «ائْتِنِي بِهِ»، فَأَتَيْتُهُ مَعَهُ، فَقَالَ: «كَيْفَ تَصُومُ؟» قُلْتُ: كُلَّ يَوْمٍ، قَالَ: «صُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ»، قُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «صُمْ يَوْمَيْنِ وَأَفْطِرْ يَوْمًا»، قَالَ: إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «صُمْ أَفْضَلَ الصِّيَامِ، صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، صَوْمُ يَوْمٍ وَفِطْرُ يَوْمٍ»
আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বলেছেন, আমাকে আমার পিতা এক সম্ভ্রান্ত মহিলার সাথে বিবাহ করালেন। আমার বাবা তার কাছে এসে তার স্বামীর ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। আমার স্ত্রী বলল, আমার স্বামী খুবই ভাল মানুষ। তবে তিনি কখনো আমার সাথে বিছানা মাড়াননি। আর আমার কাছে কিছু আশাও করেননি। আমার বাবা এটা নবী (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন : তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। যখন আমি আমার বাবার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম, তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিভাবে সাওম পালন কর? আমি বললাম, আমি প্রত্যেক দিন সাওম পালন করি। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি সপ্তাহে তিনদিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সাওম পালন করতে সক্ষম। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি দু’দিন সাওম পালন কর এবং একদিন সাওম ত্যাগ কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সাওম পালন করতে পারি। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি সর্বোত্তম সাওম অর্থাৎ দাউদ (আঃ)-এর সাওম পালন কর। একদিন সাওম পালন কর আর একদিন ত্যাগ কর।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর অতিরিক্ত রোজার কারণে দাম্পত্য জীবনে দূরত্বের কথা উঠে এসেছে। তাঁর স্ত্রী জানান, স্বামী তার কাছে আসেন না। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি প্রথমে সপ্তাহে তিন দিন সাওমের কথা বলেন। বেশি সামর্থ্যের কথা জানালে দুই দিন রোজা ও এক দিন বিরতির কথা বলেন। এরপরও আরও বেশি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি দাউদ (আ.)-এর সাওম নির্দেশ করেন—এক দিন রোজা, এক দিন বিরতি। হাদিসটি শেখায়, নফল ইবাদত এমন হওয়া উচিত নয় যাতে বৈবাহিক সম্পর্ক উপেক্ষিত হয়। বেশি রোজার আগ্রহ থাকলেও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ধাপে ধাপে ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতির দিকে নিয়ে গেছেন। পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ইবাদত চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে সমন্বয়ই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল ইবাদতের কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক উপেক্ষা করা উচিত নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ধাপে ধাপে সামর্থ্য অনুযায়ী রোজার পদ্ধতি বলেছেন।
- দাউদ (আ.)-এর সাওম হলো এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি।
- বেশি আমলের আগ্রহের সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্বের ভারসাম্য দরকার।
