২২/৫৬. অধ্যায়ঃ
এ বিষয়ে হামযাহ্ ইবনু 'আম্ম (রাঃ)-এর হাদীসে সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনায় ইখতিলাফ
সফরের সিয়ামে রোজা রাখা বা ভাঙার স্পষ্ট অনুমতি
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২৯৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২৯৯
أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ أَنْ تَصُومَ فَصُمْ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُفْطِرَ فَأَفْطِرْ»
হামযা ইব্ন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: সিয়াম পালন করতে চাইলে পালন কর। আর যদি ভঙ্গ করতে চাও তবে ভঙ্গ কর।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফর অবস্থায় সিয়াম পালন সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর উত্তর ছিল স্পষ্ট: রোজা পালন করতে চাইলে পালন কর এবং ভাঙতে চাইলে ভেঙে দাও। উত্তরটির সহজ ভাষা মুসাফিরের জন্য দুটি পথের অনুমতি তুলে ধরে। এখানে রোজা রাখাকে নিষেধ করা হয়নি এবং রোজা ভাঙাকেও অপরাধ বলা হয়নি। বরং ইচ্ছা ও পছন্দের সুযোগ রাখা হয়েছে। হাদিসে ভ্রমণের দূরত্ব, আবহাওয়া, যানবাহন বা শারীরিক কষ্টের বিস্তারিত বিবরণ নেই। তাই এসব বিষয়কে এই নির্দিষ্ট বর্ণনার সরাসরি কথা হিসেবে যোগ করা যাবে না। মূল বার্তা হলো, সফরকালীন রোজায় সহজতা রয়েছে। এই সহজতার কারণে রোজাদার ও রোজা ভঙ্গকারী পরস্পরকে দোষারোপ না করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর উত্তরের সীমার মধ্যে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে রোজা রাখতে চাইলে পালন করা যায়।
- সফরে রোজা ভাঙতে চাইলে ভাঙা যায়।
- নবী صلى الله عليه وسلم দুটি সুযোগই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
- বর্ণনায় নেই এমন বিস্তারিত নিয়ম এর নামে প্রচার করা উচিত নয়।
