২২/৫৪. অধ্যায়ঃ
সফর অবস্থায় সওম পালন করা- এ বিষয়ে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসে বর্ণনায় পার্থক্য
সফরে কুদাইদে দুধ পান করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ইফতার
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২৮৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২৮৯
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَامَ فِي السَّفَرِ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا، ثُمَّ دَعَا بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ، فَأَفْطَرَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফর অবস্থায় 'কুদাইদ' নামক স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত সাওম পালন করলেন এবং এক পেয়ালা দুধ চেয়ে নিয়ে পান করে সাওম ভেঙে ফেললেন এবং তার সাহাবীগণও সাওম ভেঙে ফেললেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সফররত অবস্থায় কুদাইদ পর্যন্ত সাওম পালন করার কথা এসেছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি এক পেয়ালা দুধ চেয়ে নেন। দুধ পান করার মাধ্যমে তিনি রোজা ভেঙে দেন। তাঁর সঙ্গে থাকা সাহাবিরাও রোজা ভাঙেন। হাদিসটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নবী صلى الله عليه وسلم নিজে প্রকাশ্যে একটি পানীয় গ্রহণ করে সফরের রোজা শেষ করেন এবং সাহাবিরা তাঁর আমল অনুসরণ করেন। এতে বোঝা যায়, সফরের মধ্যে রোজা ভাঙার সুযোগ শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও দেখানো হয়েছে। বর্ণনায় তিনি কুদাইদ পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন—এ তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সফরে রোজা রাখা এবং পরে রোজা ভাঙা একই ঘটনার দুই অংশ। তবে ঠিক কোন কারণে ওই মুহূর্তে রোজা ভাঙলেন, তা এই পাঠে আলাদাভাবে বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সফরে কুদাইদ পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন।
- তিনি দুধ পান করে দিনের মধ্যে রোজা ভেঙেছিলেন।
- সাহাবিরা তাঁর আমল অনুসরণ করে রোজা ভাঙেন।
- সফরে রোজা ভাঙার অনুমতির বাস্তব উদাহরণ এই বর্ণনায় রয়েছে।
