২২/৪৩. অধ্যায়ঃ
সওম পালনকারীর ফাযীলাত সম্পর্কে আবু উমামাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়া'কূব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য
বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে রোজা: আত্মসংযমের সহজ পথ
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২৪১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২৪১
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»
আব্দুলাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ে করতে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে আর যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য না রাখে সে যেন সাওম পালন করে। কেননা সাওম তার কামভাব দমনকারী।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিয়ে ও সাওমের মাধ্যমে আত্মসংযম। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। আর যার সে সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সাওম কামভাব দমনকারী। তাই এখানে রোজাকে শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার আমল হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি উপায় হিসেবেও বলা হয়েছে। বিয়ের সামর্থ্য থাকা ও না থাকা—দুই অবস্থার জন্য দুইটি করণীয় দেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষা যুবকদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ জীবনের স্বাভাবিক চাহিদাকে অবহেলা না করে হালাল ও সংযত পথ বেছে নিতে বলা হয়েছে। হাদিসটির ভাষা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু নির্দেশনা পরিষ্কার: সামর্থ্য থাকলে বিয়ে, আর সামর্থ্য না থাকলে সাওম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ের সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করার নির্দেশ রয়েছে।
- বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে সাওম পালনের কথা বলা হয়েছে।
- সাওম কামভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- আত্মসংযমের জন্য নিজের অবস্থার সঙ্গে মানানসই পথ বেছে নিতে হবে।
