২২/৪৩. অধ্যায়ঃ
সওম পালনকারীর ফাযীলাত সম্পর্কে আবু উমামাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়া'কূব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য
বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে সাওম: যুবকদের নববী নির্দেশ
সুনানে নাসাঈ : ২২৩৯
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২২৩৯
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَنَحْنُ شَبَابٌ لَا نَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ، قَالَ: «يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، عَلَيْكُمْ بِالْبَاءَةِ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম; তখন আমরা ছিলাম যুবক। কিন্তু আমাদের বিবাহের সামর্থ্য ছিল না। তিনি (ﷺ) বললেন, হে যুবকেরা! তোমরা বিবাহ কর। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত করে আর লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম পালন করে। সাওম তার কামভাব দূর করবে।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২২৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যুবকদের সরাসরি সম্বোধন করেছেন। যাদের বিয়ের সামর্থ্য আছে, তাদের বিয়ে করতে বলেছেন। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করতে সাহায্য করে। আর যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, তাকে সাওম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, সাওম তার কামভাব দূর করবে বা দমনে সহায়ক হবে। তাই এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো বিয়ে, দৃষ্টি সংযম, পবিত্রতা এবং সামর্থ্য না থাকলে রোজা। এখানে সাওমকে বিয়ের স্থায়ী বিকল্প বলা হয়নি; বরং সামর্থ্য না থাকা অবস্থায় কামভাব নিয়ন্ত্রণের একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবকদের জন্য এই শিক্ষা বাস্তব ও ভারসাম্যপূর্ণ: সামর্থ্য থাকলে বৈধ বিয়ে, আর না থাকলে আত্মসংযমের জন্য সাওমের সাহায্য নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ের সামর্থ্য থাকলে যুবকদের বিয়ে করতে বলা হয়েছে।
- বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখা ও লজ্জাস্থান হিফাজতে সহায়ক।
- বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে সাওম পালনের নির্দেশ আছে।
- সাওম কামভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
