২২/৪২. অধ্যায়ঃ
এ হাদীসের বর্ণনায় আবু সালিহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় মতভেদ উল্লেখ
রোজা ঢাল স্বরূপ: বিশেষ প্রতিদান, ত্যাগ ও দুই আনন্দ
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২১৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২১৫
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " مَا مِنْ حَسَنَةٍ عَمِلَهَا ابْنُ آدَمَ إِلَّا كُتِبَ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي، الصِّيَامُ جُنَّةٌ. لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন: যে কোনো নেক কাজ আদম সন্তান করে, তা দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে তার জন্য সওয়াব লেখা হয়। কিন্তু আল্লাহ বলেন: রোজা ব্যতীত, যেহেতু রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দিব। রোজা পালনকারী আমারই কারণে স্বীয় কামভাব এবং পানাহার পরিত্যাগ করে। রোজা ঢাল স্বরূপ।রোজা পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে- তার ইফতারের সময় এবং তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজা পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুবাস অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়।
[১] এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর কথা বর্ণনা করেছেন, যেহেতু হাদিসটি কুদসী হাদীস।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোজার কয়েকটি দিক একসঙ্গে এসেছে। সাধারণ নেক কাজের সওয়াব দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, কিন্তু রোজা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এটি তাঁর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান দেবেন। রোজাদার আল্লাহর কারণে নিজের কামনা, খাবার ও পানীয় ছেড়ে দেয়। তাই রোজা শুধু না খাওয়ার নাম নয়; এটি আল্লাহর জন্য সচেতন ত্যাগ। হাদিসে রোজাকে ঢালও বলা হয়েছে, যা রোজার রক্ষাকারী ভূমিকা বোঝায়। এরপর ইফতারের সময় ও রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়—দুটি আনন্দের কথা এসেছে। মুখের গন্ধের মর্যাদাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বর্ণনা রোজার বিশেষ প্রতিদান, আত্মসংযম, সুরক্ষা, দুনিয়ার আনন্দ ও আখিরাতের আশাকে একটি পূর্ণ ছবিতে তুলে ধরে। এই দিকটি আমলকে আরও সচেতন ও অর্থপূর্ণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজাদার আল্লাহর জন্য কামনা ও পানাহার ত্যাগ করে।
- রোজার প্রতিদান আল্লাহর বিশেষ দানের সঙ্গে যুক্ত।
- রোজা ঢাল স্বরূপ বলে বর্ণিত হয়েছে।
- ইফতার ও রবের সাক্ষাতে রোজাদারের দুটি আনন্দ রয়েছে।
