২২/৪০. অধ্যায়ঃ
এ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনু আবু কাসীর ও নাফ্র ইবনু শায়বান (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর বর্ণনার পার্থক্য
রমজানের ফরজ রোজা ও সুন্নত তারাবিহর সম্মিলিত ফজিলত
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২১০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২১০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ، قَالَ: - قُلْتُ لِأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ أَبِيكَ، سَمِعَهُ أَبُوكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَيْسَ بَيْنَ أَبِيكَ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدٌ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ: نَعَمْ - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ عَلَيْكُمْ وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
নযর ইব্ন শায়বান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বললাম : আপনি আপনার পিতা থেকে রমজান মাস সম্পর্কে যা শুনেছেন তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। আর আপনার পিতা তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমতাবস্থায় শুনেছিলেন যে, আপনার পিতা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাঝখানে অন্য আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর রমজান মাসের সিয়াম ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য রাতের (তারাবিহের) সালাতকে সুন্নত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রমজান মাসে সিয়াম পালন করে এবং তারাবির সালাত আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সেদিনের মতো পবিত্র হয়ে যায় যেদিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের দিনের ও রাতের ইবাদতের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রাতের সালাতকে উম্মতের জন্য সুন্নত করেছেন। এরপর বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখে এবং রাতের সালাত আদায় করে, সে গুনাহ থেকে সেই দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। বর্ণনাটি রোজা ও তারাবিহকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরস্পর সম্পূরক আমল হিসেবে দেখায়। দিনের ফরজ দায়িত্ব পালন এবং রাতের সুন্নত ইবাদত—দুটিই আল্লাহর জন্য হওয়া দরকার। একই সঙ্গে হাদিসের শক্তিশালী উপমা বান্দাকে ক্ষমার আশা দেয়। তবে এই সুসংবাদকে কেন্দ্র করে নিজের নিয়ত, বিশ্বাস ও ইবাদতের আন্তরিকতার দিকে নজর দেওয়াই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের সিয়াম আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে।
- রমজানের রাতের সালাত নববী সুন্নত হিসেবে এসেছে।
- রোজা ও তারাবিহ ঈমান ও সওয়াবের আশায় পালন করতে হবে।
- দুই আমল একসঙ্গে গুনাহ থেকে পবিত্রতার কারণ হতে পারে।
