২২/৩০. অধ্যায়ঃ
কখন ফাত্র হবে?
বিলালের আজান ও সুবহে সাদিক: সত্য ফজর চেনার সহজ ব্যাখ্যা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১৭০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১৭০
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُنَبِّهَ نَائِمَكُمْ وَيُرْجِعَ قَائِمَكُمْ، وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ: هَكَذَا - وَأَشَارَ بِكَفِّهِ -، وَلَكِنِ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ: هَكَذَا - وَأَشَارَ بِالسَّبَابَتَيْنِ - "
ইব্ন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যারা ঘুমন্ত তাদের জাগাবার জন্য এবং যারা তাহাজ্জুদের সালাতরত তাদের বিরত করার জন্য বিলাল (রাঃ) রাতে আযান দেয়।অতঃপর তিনি (ﷺ) উভয় হাতের কব্জি দ্বারা ইশারা করে দেখালেন যে, এরূপ চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া ফজর হওয়ার লক্ষণ নয়। বরং ফজর হওয়ার লক্ষণ হল এ রকম চিহ্ন প্রকাশিত হওয়া। এই বলে তিনি স্বীয় তর্জনী অঙ্গুলিদ্বয় দ্বারা ইশারা করলেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিলাল (রাঃ)-এর রাতের আজানের উদ্দেশ্য এবং সত্য ফজরের চিহ্ন দুটোই বলা হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, বিলাল (রাঃ) রাতে আজান দিতেন, যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তি জেগে ওঠে এবং তাহাজ্জুদে দাঁড়ানো ব্যক্তি নিজের ইবাদত গুটিয়ে নিতে পারে। এরপর তিনি হাতের ইশারায় বোঝান, ওপরের দিকে ওঠা আলোর রেখা সত্য ফজর নয়। আসল ফজর হলো এমন আলো, যা দিগন্তে আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সাহরির শেষ সময় এবং ফজরের শুরু বুঝতে এই পার্থক্য জরুরি। হাদিসটি কেবল আজানের কথা বলে না; আলো দেখার ধরনও পরিষ্কার করে। তাই রাতের আজান শুনেই বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ফজরের আলামত বুঝতে হবে—এটাই বর্ণনার মূল শিক্ষা। ফলে আজানের উদ্দেশ্য ও প্রকৃত সময়ের পার্থক্য একসঙ্গে বুঝে নেওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিলাল (রাঃ)-এর রাতের আজান ঘুমন্ত ও তাহাজ্জুদরতদের সতর্ক করার জন্য ছিল।
- ওপরের দিকে ওঠা আলোকে সত্য ফজর বলা হয়নি।
- দিগন্তে আড়াআড়ি ছড়িয়ে পড়া আলো সত্য ফজরের চিহ্ন।
- সাহরির শেষ সময় নির্ধারণে সত্য ফজরের আলামত বুঝতে হবে।
