২২/৯. অধ্যায়ঃ
মেঘাচ্ছন্ন আকাশে শা'বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা এবং আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে বর্ণনা মতভেদ।
রমজানের চাঁদ দেখা ও ত্রিশ দিনের হিসাব
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১১৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১১৮
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا ثَلَاثِينَ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা চাঁদ দেখে সাওম পালন করবে এবং চাঁদ দেখেই সাওম ভঙ্গ করবে। আর যদি তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনার মূল কথা খুব সরাসরি: চাঁদ দেখে সাওম পালন করতে হবে এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙতে হবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে। এখানে রমজান শুরুর আনন্দ বা ঈদের তাড়াহুড়োর চেয়ে নিশ্চিত পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাঁদ দেখা না গেলে নিজের সুবিধামতো দিন কমানো বা বাড়ানোর কথা বলা হয়নি; পূর্ণ ত্রিশ দিনের হিসাব দেওয়া হয়েছে। তাই হাদিসটি সময় নির্ধারণে শৃঙ্খলা ও সতর্কতার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে এটি মনে করায় যে সাওম একটি সামষ্টিক ইবাদত, যার শুরু ও শেষ স্পষ্ট চিহ্নের সঙ্গে যুক্ত। এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে সাক্ষীর সংখ্যা, দূরবর্তী দেশের চাঁদ বা আধুনিক গণনার আলোচনা নেই। ফলে ব্যাখ্যাকে মূল তিনটি বিষয়ে সীমিত রাখা ভালো: চাঁদ দেখা, সাওম শুরু বা শেষ করা এবং মেঘ হলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজান শুরুতে চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সাওম শেষ করতেও চাঁদ দেখার নির্দেশ রয়েছে।
- মেঘাচ্ছন্ন আকাশে ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে।
- হাদিসে নেই এমন অতিরিক্ত পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে আরোপ করা উচিত নয়।
