২২/৮. অধ্যায়ঃ
রমাযান মাসের চাঁদ দেখার ব্যাপারে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা এবং এ ব্যাপারে সিমাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাদীসে সুফইয়ান এর বর্ণনা পার্থক্য
চাঁদ দেখে রোজা: মেঘ হলে ত্রিশ দিন ও সাক্ষ্যের নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১১৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১১৬
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شَبِيبٍ أَبُو عُثْمَانَ، وَكَانَ شَيْخًا صَالِحًا بِطَرَسُوسَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ الْحَارِثِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ، فَقَالَ: أَلَا إِنِّي جَالَسْتُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَاءَلْتُهُمْ، وَإِنَّهُمْ حَدَّثُونِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَانْسُكُوا لَهَا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا ثَلَاثِينَ، فَإِنْ شَهِدَ شَاهِدَانِ فَصُومُوا، وَأَفْطِرُوا»
আব্দুর রহমান ইব্ন যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি মাসের সন্দেহযুক্ত দিনে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন: শুন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের সাথে বসে ছিলাম। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা আমাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা চাঁদ দেখে সাওম পালন কর এবং চাঁদ দেখে সাওম ভঙ্গ কর। আর চাঁদ দেখেই কুরবানি কর। তবে হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করে নেবে। অতঃপর যদি দু’জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় তখন তোমরা সাওম পালন করবে এবং ভঙ্গ করবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজান ও ঈদের সময় নির্ধারণের কয়েকটি স্পষ্ট দিক একসঙ্গে এসেছে। চাঁদ দেখে সাওম শুরু করতে হবে এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙতে হবে। কুরবানির সময়ও চাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, দুইজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাওম শুরু বা শেষ করা হবে। বর্ণনাটি সন্দেহের দিনে দেওয়া একটি ভাষণের মধ্যে এসেছে এবং সাহাবিদের কাছ থেকে শোনা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, অনুমান বা ব্যক্তিগত ধারণার বদলে দৃশ্যমান চাঁদ, পূর্ণ গণনা এবং সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করা। হাদিসে যে পদ্ধতিগুলো বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাকে সেগুলোর মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত; নতুন হিসাব বা প্রযুক্তি নিয়ে এতে কোনো কথা নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চাঁদ দেখে সাওম শুরু ও শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।
- মেঘে চাঁদ দেখা না গেলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে।
- দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
- সন্দেহের বদলে দেখা, গণনা ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
