২২/৭. অধ্যায়ঃ

বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার ভিন্নতা প্রসঙ্গ

রমজানের চাঁদ: ভিন্ন অঞ্চলের চাঁদ দেখার হাদিস

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১১১

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ، قَالَ: فَقَدِمْتُ الشَّامَ، فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتَهَلَّ عَلَيَّ هِلَالُ رَمَضَانَ وَأَنَا بِالشَّامِ، فَرَأَيْتُ الْهِلَالَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ، فَسَأَلَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلَالَ، فَقَالَ: مَتَى رَأَيْتُمْ؟ فَقُلْتُ: رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، قَالَ: أَنْتَ رَأَيْتَهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، وَرَآهُ النَّاسُ فَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ، قَالَ: «لَكِنْ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ، فَلَا نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا أَوْ نَرَاهُ»، فَقُلْتُ: أَوَ لَا تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ، وَأَصْحَابِهِ؟ قَالَ: لَا هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন উম্মুল ফজল (রাঃ) তাঁকে মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর কাছে সিরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। আমি সিরিয়ায় গিয়ে তাঁর প্রয়োজন সারলাম এবং সিরিয়ায় অবস্থানকালে জুমুয়ার রাতে রমজানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি মাসের শেষের দিকে মদিনায় ফিরে এলাম। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে চাঁদ দেখার কথা জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা চাঁদ কখন দেখেছিলে? আমি বললাম, আমরা তো চাঁদ জুমুয়ার রাতে দেখেছিলাম। তিনি আবারও প্রশ্ন করলেন যে, তুমি কি জুমুয়ার রাতে নিজে চাঁদ দেখেছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। অন্যরাও দেখেছে এবং তারাও সাওম পালন করেছে, মুয়াবিয়া (রাঃ)-ও সাওম পালন করেছেন। তিনি বললেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি। আমরা সাওম পালন ছাড়বো না যতক্ষণ না ত্রিশ পূর্ণ হয় অথবা চাঁদ দেখা যায়। আমি বললাম, আপনি কি মুয়াবিয়া অথবা তার সাথীদের দেখা যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন, না, বরং আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১১১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কুরাইব (রহ.) সিরিয়ায় জুমুয়ার রাতে রমজানের চাঁদ দেখেন এবং সেখানকার মানুষ, মুয়াবিয়া (রাঃ)-সহ, সাওম শুরু করেন। পরে মদিনায় ফিরে তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বিষয়টি জানান। মদিনায় চাঁদ দেখা হয়েছিল শনিবার রাতে। ইবন আব্বাস (রাঃ) সিরিয়ার দেখা যথেষ্ট মনে করেননি; তিনি বলেন, তারা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবেন অথবা নিজেরা চাঁদ দেখবেন। তিনি এটিকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো দূরবর্তী দুই অঞ্চলে চাঁদ দেখার তারিখ আলাদা হওয়ার বাস্তব ঘটনা। ব্যাখ্যায় সব স্থান ও সব পরিস্থিতির জন্য নতুন কোনো চূড়ান্ত নিয়ম বানানো ঠিক নয়। হাদিস যতটুকু বলেছে, ততটুকুই স্পষ্ট: ইবন আব্বাস (রাঃ) মদিনার দেখা অনুযায়ী সাওম চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং দূরের অঞ্চলের দেখা গ্রহণ করেননি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভিন্ন অঞ্চলে রমজানের চাঁদ ভিন্ন রাতে দেখা যেতে পারে।
  • ইবন আব্বাস (রাঃ) নিজ অঞ্চলের দেখা অনুযায়ী সাওম চালিয়ে যান।
  • চাঁদ না দেখলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করার কথা এসেছে।
  • একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বাইরে অতিরিক্ত সাধারণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন