২২/৫. অধ্যায়ঃ
মা'মার থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য
তারাবীহর সালাত ও রমজানের ফজিলত
সুনানে নাসাঈ : ২১০৪
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২১০৪
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ عَزِيمَةٍ، وَقَالَ: «إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَسُلْسِلَتْ فِيهِ الشَّيَاطِينُ» أَرْسَلَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবি (ﷺ) রমজানে তারাবীহর সালাত আদায় করার জন্য উৎসাহিত করতেন কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়া। তিনি (ﷺ) বলতেন যে, যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২১০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। প্রথমত, নবি صلى الله عليه وسلم রমজানে রাতের সালাত বা তারাবীহ আদায়ে মানুষকে উৎসাহ দিতেন। তবে তিনি এটিকে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে চাপিয়ে দেননি। দ্বিতীয়ত, তিনি রমজানের বিশেষ মর্যাদা বোঝাতে বলেছেন যে এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। তাই তারাবীহর সালাতকে রমজানের ইবাদতের একটি উৎসাহিত অংশ হিসেবে দেখা যায়। হাদিসের ভাষা আমাদের ভারসাম্য শেখায়: ইবাদতের প্রতি আগ্রহ থাকবে, কিন্তু যা বাধ্যতামূলক বলা হয়নি তাকে বাধ্যতামূলক বলে উপস্থাপন করা হবে না। রমজানের রাতগুলোকে সালাত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে কাজে লাগানো ভালো। একই সঙ্গে অন্যকে উৎসাহ দেওয়ার সময় কোমল ভাষা ব্যবহার করা এবং হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুই বলা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রাতের সালাতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- তারাবীহকে হাদিসে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
- রমজানের বিশেষ পরিবেশ ইবাদতে মনোযোগ বাড়ানোর সুযোগ দেয়।
- দ্বীনের কথা বলার সময় উৎসাহ ও বিধানের পার্থক্য ঠিক রাখা দরকার।
