২২/১. অধ্যায়ঃ

সওম ফার্য হওয়া

ইসলামের ফরজ আমল: সালাত, জাকাত, রোজা ও হজ

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৯১

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ أَنْ نَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ الْعَاقِلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَأَخْبَرَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ، وَنَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةَ أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي كُلِّ سَنَةٍ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا؟ قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزِيدَنَّ عَلَيْهِنَّ شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে যেন নবী (ﷺ)-এর কাছে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন না করি। তাই আমরা মনে মনে আশা করতাম যেন গ্রাম থেকে কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি এসে তাঁকে (রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) প্রশ্ন করে। ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দূত এসেছিলেন। তিনি আমাদের বললেন যে, আপনি নাকি দাবি করেন যে, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ আপনাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সে সত্যই বলেছে।অতঃপর সে প্রশ্ন করল: তাহলে আসমান কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। অতঃপর সে প্রশ্ন করল: জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। তারপর সে প্রশ্ন করল: জমিনে পাহাড়সমূহ কে স্থাপন করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। এরপর সে প্রশ্ন করল: এবং তাতে উপকারী গাছপালা কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ।অতঃপর সে বলল: ঐ সত্তার কসম যিনি আসমান এবং জমিন সৃষ্টি করেছেন আর তাতে পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে উপকারী বৃক্ষসমূহ সৃষ্টি করেছেন—আল্লাহ কি আপনাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন? তিনি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর প্রতি দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে সত্যই বলেছে। অতঃপর সে বলল: ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর প্রতি বছর রমজানের সাওম ফরজ? তিনি বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের মধ্যে যারা খরচ বহনে সক্ষম তাদের ওপর হজ্জ ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বললো, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বলল ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি এর থেকে কোনো কিছু কমও করবো না এবং বেশিও করবো না। যখন সে ফিরে গেলো, তখন নবী (ﷺ) বললেন, যদি সে তার কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৯১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় আল্লাহর রাসূলের সত্যতা এবং ইসলামের প্রধান ফরজ আমল। একজন বুদ্ধিমান গ্রাম্য ব্যক্তি এসে প্রথমে জানতে চান, মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে সত্যিই আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন কি না। তিনি আসমান, জমিন, পাহাড় ও উপকারী গাছপালার স্রষ্টা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন এবং প্রতিবার উত্তর পান—আল্লাহ। এরপর তিনি আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে নবুওয়াতের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সম্পদের জাকাত, প্রতি বছরের রমজানের রোজা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির হজ সম্পর্কে একে একে প্রশ্ন করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রতিটি বিষয়ে তাঁর দূতের কথা সত্য বলে নিশ্চিত করেন এবং বলেন, আল্লাহই এসবের আদেশ দিয়েছেন। লোকটি বলে, সে এর কিছু কমাবে না, বাড়াবেও না। সে চলে গেলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, সে সত্যবাদী হলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদিসটি প্রশ্ন করে নিশ্চিত হওয়া, ফরজ আমল জানা এবং অঙ্গীকারে সত্য থাকার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আসমান, জমিন, পাহাড় ও উপকারের স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ।
  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জাকাত, রমজানের রোজা ও সামর্থ্যবানদের হজ আল্লাহর আদেশ।
  • ফরজ আমল কমানো বা বাড়ানোর বদলে যথাযথভাবে পালন করার অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ।
  • সত্যবাদীভাবে অঙ্গীকার পূরণ জান্নাতে প্রবেশের কারণ হতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন