২১/১১৮. অধ্যায়ঃ
পুনরুত্থান
হাশরের দিন প্রত্যেকে নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৮৩
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الزُّبَيْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُبْعَثُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا»، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَيْفَ بِالْعَوْرَاتِ؟ قَالَ: {لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} [عبس: 37]
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেয়ামতের দিন লোকেদেরকে উঠানো হবে নগ্নপায়ে, নগ্নদেহে, খৎনাহীন অবস্থায়। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন যে, লজ্জাস্থানের অবস্থা কিরূপ হবে? তিনি (ﷺ) বললেন: “সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে” - (সূরা আবাসা ৮০: ৩৭)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হাশরের দিনের ভয়াবহতা ও মানুষের ব্যক্তিগত ব্যস্ততা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষকে খালি পায়ে, নগ্নদেহে এবং খৎনাহীন অবস্থায় উঠানো হবে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন মানুষের লজ্জাস্থানের অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সূরা আবাসার বক্তব্য উল্লেখ করেন—সেদিন প্রত্যেক মানুষের এমন নিজস্ব চিন্তা থাকবে, যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে ব্যস্ত রাখবে। অর্থাৎ হাশরের পরিস্থিতি এত গুরুতর হবে যে মানুষ অন্যের শরীর দেখা বা তা নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে না। হাদিসটি কোনো অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত আলোচনা না করে কেয়ামতের দিনের মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত জবাবদিহি বোঝায়। এখানে প্রধান শিক্ষা হলো, সেই দিন প্রত্যেকে নিজের অবস্থার চিন্তায় ডুবে থাকবে। তাই কেয়ামতের দিনের প্রস্তুতি ব্যক্তিগত; অন্যের ভুল নিয়ে ব্যস্ত থাকার আগে নিজের আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা মনে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাশরের দিন প্রত্যেকে নিজের অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে ব্যস্ত থাকবে।
- কেয়ামতের ভয়াবহতা মানুষের অন্যের দিকে তাকানোর চিন্তাও দূর করে দেবে।
- আল্লাহর সামনে ব্যক্তিগত জবাবদিহির প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
