২১/১১৭. অধ্যায়ঃ
মু'মিনদের রূহসমূহ
মেরুদণ্ডের শেষ হাড় ও কেয়ামতের পুনর্গঠন
সুনানে নাসাঈ : ২০৭৭
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২০৭৭
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، وَمُغِيرَةُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ بَنِي آدَمَ» ـ وَفِي حَدِيثِ مُغِيرَةَ ـ: «كُلُّ ابْنِ آدَمَ يَأْكُلُهُ التُّرَابُ إِلَّا عَجْبَ الذَّنَبِ مِنْهُ خُلِقَ، وَفِيهِ يُرَكَّبُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক আদম সন্তানকে মাটি খেয়ে ফেলবে মেরুদণ্ডের হাড়টুকু ব্যতীত; এ থেকেই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ থেকেই তাকে আবার পুনর্গঠন হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াতে (كُلُّ بَنِي آدَمَ) এবং মুগীরা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াতে (كُلُّ ابْنِ آدَمَ) আছে।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২০৭৭-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আদম সন্তানের দেহ মাটি খেয়ে ফেলবে, তবে মেরুদণ্ডের শেষের একটি অংশ ব্যতিক্রম। সেই অংশ থেকেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাকে আবার গঠন করা হবে। হাদিসটির মূল বিষয় কেয়ামতের পুনরুত্থান ও মানবদেহের পুনর্গঠন। বর্ণনায় খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেহ মাটিতে মিশে গেলেও আল্লাহ মানুষকে পুনরায় গঠন করবেন। এখানে সেই হাড়ের আকার, বৈজ্ঞানিক গঠন বা পুনর্গঠনের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই হাদিসকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দাবির সঙ্গে জোর করে মিলিয়ে বাড়তি কথা বলা ঠিক নয়। একজন মুমিনের জন্য মূল শিক্ষা হলো—মৃত্যুর পর পুনরুত্থান আল্লাহর ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। দেহ নষ্ট হয়ে যাওয়া পুনরায় সৃষ্টি হওয়ার পথে বাধা নয়। এই বিশ্বাস কেয়ামত, হিসাব এবং আখিরাতের জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের দেহ মাটিতে মিশে গেলেও একটি অংশ অবশিষ্ট থাকার কথা বলা হয়েছে।
- সেই অংশ থেকে কেয়ামতের দিন মানুষকে পুনর্গঠন করা হবে।
- দেহের ক্ষয় আল্লাহর পুনরুত্থানের ক্ষমতাকে বাধা দিতে পারে না।
- হাদিসে না থাকা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জোর করে যোগ করা উচিত নয়।
