২১/২৯. অধ্যায়ঃ
গরম পানি দিয়ে মৃত ব্যক্তির গোসল দেয়া
সন্তান হারানোর শোক: উম্মু কায়সের কথা ও দীর্ঘ আয়ুর বর্ণনা
সুনানে নাসাঈ : ১৮৮২
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১৮৮২
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ، مَوْلَى أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ قَالَتْ: تُوُفِّيَ ابْنِي فَجَزِعْتُ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ لِلَّذِي يَغْسِلُهُ: لَا تَغْسِلِ ابْنِي بِالْمَاءِ الْبَارِدِ فَتَقْتُلَهُ، فَانْطَلَقَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِقَوْلِهَا، فَتَبَسَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «مَا قَالَتْ طَالَ عُمْرُهَا »، فَلَا نَعْلَمُ امْرَأَةً عَمِرَتْ مَا عَمِرَتْ
উম্মে কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পুত্র মারা গেল। আমি তাতে ভারাক্রান্ত হলাম। আর যে ব্যক্তি গোসল দিচ্ছিল আমি তাকে বললাম, আমার ছেলেকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল দিয়ে মেরে ফেল না।উক্কাশা ইবন মিহসান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে মহিলার কথা জানালে তিনি (ﷺ) মুচকি হাসলেন, এরপর বললেন, "সে যা বলেছে তা তার আয়ুকে দীর্ঘ করুক!" ফলে এ মহিলার মতো অন্য কোনো মহিলা এত দীর্ঘ আয়ু পেয়েছেন বলে আমরা জানি না।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ১৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সন্তান হারানোর শোক এবং শোকের মুহূর্তে একজন মায়ের স্বতঃস্ফূর্ত কথা উঠে এসেছে। উম্মু কায়স (রাঃ)-এর পুত্র মারা গেলে তিনি খুব ভারাক্রান্ত হন। যিনি শিশুটিকে গোসল দিচ্ছিলেন, তাঁকে তিনি ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে আবার ‘মেরে ফেলতে’ নিষেধ করেন। কথাটি বাস্তব অর্থে মৃত্যু ঘটানোর দাবি নয়; বরং গভীর শোকের মধ্যে বলা একটি আবেগপূর্ণ বাক্য হিসেবে বর্ণনায় এসেছে। উক্কাশা ইবন মিহসান (রাঃ) এ কথা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তিনি মুচকি হাসেন এবং তার কথাটি যেন তার আয়ু দীর্ঘ করে—এমন কথা বলেন। বর্ণনাকারীরা জানান, পরে ওই নারীর মতো দীর্ঘজীবী আর কোনো নারীকে তারা জানতেন না। হাদিসটি শোকাহত মানুষের ভাষা ও নবীর কোমল প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তান হারানোর শোক মানুষের কথাবার্তায় গভীর আবেগ তৈরি করতে পারে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শোকাহত মায়ের কথায় কঠোরতা দেখাননি; বরং মুচকি হেসেছেন।
- বর্ণনায় ওই নারীর দীর্ঘ আয়ুর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
