২১/২২. অধ্যায়ঃ
বিপদের সময় সাওয়াবের নিয়্যাতে ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ
সন্তান হারানোর শোকে ধৈর্য: চোখের পানি আল্লাহর দয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৬৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৬৮
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: أَرْسَلَتْ بِنْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ أَنَّ ابْنًا لِي قُبِضَ فَأْتِنَا، فَأَرْسَلَ يَقْرَأُ السَّلَامَ وَيَقُولُ: «إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَ اللَّهِ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ»، فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَيَأْتِيَنَّهَا، فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَرِجَالٌ، فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّبِيُّ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ، فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا هَذَا؟ قَالَ: «هَذَا رَحْمَةٌ، يَجْعَلُهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ»
উসামা ইব্ন যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর কন্যা সংবাদ পৌঁছালেন যে, আমার এক ছেলে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। অতএব আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন তিনি সালাম পাঠিয়ে বললেন, আল্লাহ যা নিয়ে যান তা তাঁরই এবং যা দান করেন তাও তাঁরই। আর প্রতিটি বস্তুর জন্য আল্লাহর নিকট রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়। অতএব, তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সওয়াবের আশা রাখ। অতঃপর তিনি কসম দিয়ে তাঁর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি অবশ্যই তাঁর কাছে আসেন।তখন তিনি দাঁড়ালেন; তাঁর সাথে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ), মুয়াজ ইবন জাবাল (রাঃ), উবাই ইবন কাব (রাঃ), যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) এবং আরো কিছু লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে ছোট্ট ছেলেকে হাজির করা হল তখন তার ঊর্ধ্বশ্বাসের আওয়াজ বেড়ে যাচ্ছিল। এটা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দু’চোখে অশ্রু ঝরতে লাগল।তখন সাদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ কী? তিনি (ﷺ) বললেন, এ হল দয়ামায়া বিশেষ যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে রেখে থাকেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের ওপর দয়া করে থাকেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সন্তানের মৃত্যু আসন্ন হলে কীভাবে ধৈর্য ও দয়ার সঙ্গে আচরণ করতে হয় তা দেখা যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কন্যাকে জানালেন, আল্লাহ যা নেন তা তাঁরই, যা দেন তাও তাঁরই এবং প্রতিটি জিনিসের একটি নির্ধারিত সময় আছে। তাই তিনি ধৈর্য ধরতে ও সওয়াবের আশা রাখতে বললেন। পরে শিশুটিকে দেখে তাঁর চোখে পানি আসে। সাদ (রাঃ) জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এমন দয়া যা আল্লাহ বান্দাদের হৃদয়ে রাখেন। ফলে হাদিসটি দুটি বিষয় একসঙ্গে শেখায়: বিপদে ধৈর্য রাখা এবং মমতার কারণে চোখে পানি আসাকে স্বাভাবিকভাবে দেখা। এখানে চিৎকার বা নিষিদ্ধ বিলাপ নয়; নীরব অশ্রু, দয়া এবং আল্লাহর সিদ্ধান্ত স্মরণ করার শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ যা নেন ও দেন—সবই তাঁর মালিকানার অধীন।
- প্রতিটি জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে নির্ধারিত সময় রয়েছে।
- সন্তান হারানোর শোকে ধৈর্য ধরে সওয়াবের আশা রাখতে বলা হয়েছে।
- মমতা থেকে চোখে পানি আসা হৃদয়ের দয়ার প্রকাশ।
