২১/২১. অধ্যায়ঃ
বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা
গাল চাপড়ানো ও জাহিলি আহ্বান: শোকের নিষিদ্ধ আচরণ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৬৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৬৪
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেন: ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গণ্ডদেশে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলী যুগের দোয়ার মতো দোয়া করে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শোকের সময় তিন ধরনের আচরণকে নাকচ করেছেন। গণ্ডদেশে আঘাত করা, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং জাহিলি যুগের মতো আহ্বান করা—এসবের কোনোটিই সংযত শোকের প্রকাশ নয়। হাদিসের ভাষা কঠোর, যাতে মুসলিমরা বিপদের সময় এ ধরনের কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে। এখানে দুঃখ অনুভব করা নিষেধ বলা হয়নি; বরং দুঃখের কারণে নিজের শরীর, পোশাক ও কথাবার্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তাই গাল চাপড়ানো সম্পর্কে হাদিসটি শুধু একটি কাজের নিষেধ নয়, বরং শোকের সময় সামগ্রিক আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। কঠিন সংবাদ এলে আচরণ ও মুখের কথা নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই বর্ণনার সরাসরি দাবি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গণ্ডদেশে আঘাত করে শোক প্রকাশ করা যাবে না।
- বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা নিষিদ্ধ শোকাচরণের অংশ।
- জাহিলি যুগের ভাষা বা আহ্বান পরিহার করতে হবে।
- দুঃখের মাঝেও নিজের কথা ও কাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
