২০/৬০. অধ্যায়ঃ
ফাজরের দু' রাক্'আত সুন্নাতের সময় এবং হাদীস বর্ণনায় নাফি'-এর ওপর মতানৈক্য
রাতে কুরআন তিলাওয়াত: কুরআনকে বালিশ না বানানোর শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৮৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭৮৩
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ شُرَيْحًا الْحَضْرَمِيَّ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَتَوَسَّدُ الْقُرْآنَ»
যুহরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সায়িব ইবনু ইয়াজীদ (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে শুরাইহ আল হাদরামী (রাঃ)-এর আলোচনা হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে এমন এক ব্যক্তি যে কুরআনকে বালিশ বানায় না (অর্থাৎ সে কুরআন না পড়ে ঘুমায় না বরং যত্নের সঙ্গে রাতে কুরআন পাঠ করে থাকে)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শুরাইহ আল হাদরামী (রাঃ)-এর আলোচনা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর একটি প্রশংসনীয় অভ্যাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুরাইহ কুরআনকে বালিশ বানান না। অনুবাদে এর অর্থ পরিষ্কার করা হয়েছে—তিনি কুরআন না পড়ে শুধু ঘুমিয়ে পড়তেন না; বরং রাতে যত্নের সঙ্গে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তাই এখানে “কুরআনকে বালিশ বানানো” কথাটি আক্ষরিক ঘুমানোর উপকরণ বোঝাতে নয়, বরং কুরআন পাঠে অবহেলার বিপরীত অর্থে এসেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো রাতে কুরআন পড়ার অভ্যাস এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্ন। তবে এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ, নির্দিষ্ট সূরা বা নির্দিষ্ট সময় বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যাও এতটুকুতেই সীমিত থাকা উচিত—রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা তাঁর ভালো অভ্যাস ছিল। নিয়মিত তিলাওয়াতের প্রতি যত্নই এখানে মূল প্রশংসার কারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে যত্নসহ কুরআন তিলাওয়াত করা প্রশংসনীয় অভ্যাস হিসেবে এসেছে।
- কুরআন না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- হাদিসে তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা সূরা নির্ধারণ করা হয়নি।
- আল্লাহর কিতাবের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখার মূল্য বোঝা যায়।
