২০/৫৯. অধ্যায়ঃ
তাহাজ্জুদ সলাত পরিত্যাগকারীর নিন্দা প্রসঙ্গে
তাহাজ্জুদ নামাজে ধারাবাহিক থাকার গুরুত্ব
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৬৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭৬৩
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَكُنْ مِثْلَ فُلَانٍ كَانَ يَقُومُ اللَّيْلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ»
আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, “তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হবে না, যে রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতো পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।”
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে একটি সরাসরি উপদেশ দিয়েছেন। তিনি এমন ব্যক্তির মতো হতে নিষেধ করেছেন, যে আগে রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করত, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। হাদিসটির মূল বিষয় তাহাজ্জুদ নামাজে ধারাবাহিকতা। এখানে কত রাকাত পড়তে হবে, কোন সময় পড়তে হবে বা কী পড়তে হবে—এসব বলা হয়নি। তাই শিক্ষাটি সীমিত ও পরিষ্কার: ভালো একটি ইবাদত শুরু করার পর অবহেলায় তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাতের সালাতের অভ্যাস ধরে রাখার চেষ্টা করা দরকার। এই বর্ণনা মানুষকে বড় বড় দাবি করতে নয়, বরং শুরু করা নেক আমল যত্নের সঙ্গে চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। এভাবে হাদিসের ভাষা মেনে চললে মূল শিক্ষা পরিষ্কার থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় বাড়তি দাবি এড়ানো যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাহাজ্জুদ নামাজ শুরু করলে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
- ভালো আমল হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- নিজের ইবাদতের অভ্যাস নিয়মিত পর্যালোচনা করা উপকারী।
- হাদিসে রাকাত বা সময়ের বিস্তারিত নয়, ধারাবাহিকতার কথা প্রধান।
