২০/৪৮. অধ্যায়ঃ
হাদীস বর্ণনায় শু'বাহ্-এর ওপর মতানৈক্য
বিতরের কিরাত ও তৃতীয়বার উচ্চস্বরে সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৩৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭৩৩
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَلَمَةُ، وَزُبَيْدٌ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْوِتْرِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ، وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، ثُمَّ يَقُولُ إِذَا سَلَّمَ: «سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ»، وَيَرْفَعُ بِسُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ صَوْتَهُ بِالثَّالِثَةِ، رَوَاهُ مَنْصُورٌ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، وَلَمْ يَذْكُرْ ذَرًّا
আব্দুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের সালাতে "সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা", "কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন" ও "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" পাঠ করতেন। অতঃপর যখন সালাম ফিরাতেন তখন "সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস" পড়তেন এবং তৃতীয়বারে "সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস" উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিতরের সালাতে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পাঠ করা তিনটি সূরা উল্লেখ আছে: সূরা আল-আলা, সূরা আল-কাফিরুন এবং সূরা আল-ইখলাস। এরপর সালাম ফেরালে তিনি “সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস” পড়তেন। বর্ণনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, তৃতীয়বার এই জিকরটি তিনি উচ্চস্বরে বলতেন। তাই হাদিসটির মূল বিষয় শুধু বিতরের কিরাত নয়; সালাত শেষের জিকরের ধরনও এর অংশ। যারা “বিতরের পর কোন দোয়া পড়তে হয়” খোঁজেন, তাদের জন্য এখানে নির্দিষ্ট একটি জিকর পাওয়া যায়। তবে অনুবাদে মোট তিনবার বলার বাক্যটি আগের বর্ণনার মতো আলাদা করে পুনরুক্ত না হলেও “তৃতীয়বার” শব্দটি পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়। ব্যাখ্যায় এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত শব্দ, অর্থ বা ফজিলতের দাবি যোগ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিতরের কিরাতে তিনটি সূরার নাম সরাসরি উল্লেখিত।
- সালামের পর ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ পড়ার আমল এসেছে।
- তৃতীয়বার জিকরটি উচ্চস্বরে বলার কথা বর্ণনায় রয়েছে।
- হাদিসে জিকরের আলাদা ফজিলত বলা হয়নি, তাই অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়।
