১/১১৭. অধ্যায়ঃ
তন্দ্রার বিবরণ
সালাতে তন্দ্রা এলে করণীয়: সচেতন ইবাদতের হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬২
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ هِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا نَعَسَ الرَّجُلُ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ، لَعَلَّهُ يَدْعُو عَلَى نَفْسِهِ وَهُوَ لَا يَدْرِي»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যদি কোন ব্যক্তির সালাতে তন্দ্রা আসে, তবে সে যেন সালাত শেষ করে চলে যায়। কেননা, অজ্ঞাতসারে সে নিজের ওপরই খারাপ দোয়া করে বসবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতে সচেতনতা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সালাতে তন্দ্রা এলে সে যেন সালাত শেষ করে চলে যায়। কারণ ঘুমঘুম অবস্থায় সে বুঝতে না পেরে নিজের ওপরই খারাপ দোয়া করে ফেলতে পারে। এখানে সালাতের গুরুত্ব কমানো হয়নি; বরং সালাত যেন বুঝে, মনোযোগ দিয়ে এবং সচেতন অবস্থায় আদায় করা হয়, সেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মানুষ যখন খুব ক্লান্ত থাকে, তখন তার কথা, দোয়া ও মনোযোগ ঠিক থাকে না। বিশেষ করে সালাতের মতো ইবাদতে মনোযোগ জরুরি। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইবাদত শুধু শরীরের কাজ নয়; মন ও বুঝও এতে দরকার। তন্দ্রা এলে জোর করে এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক নয়, যেখানে নিজের কথাও ঠিকভাবে বোঝা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে তন্দ্রা এলে নিজের অবস্থার দিকে খেয়াল করা দরকার।
- অসচেতন অবস্থায় দোয়া করলে ভুল কথা মুখে আসতে পারে।
- ইবাদত মনোযোগ ও বুঝের সঙ্গে করা উচিত।
- ক্লান্তি বেশি হলে সালাতের আদব রক্ষা করে বিরতি নেওয়ার শিক্ষা আছে।
