১৮/১. অধ্যায়ঃ
হাদিস ১৫৪৮
নাখলে ভয়কালীন সালাত: পাহারা ও সিজদার পালাক্রম
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫৪৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৪৮
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَخْلٍ وَالْعَدُوُّ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرُوا جَمِيعًا، ثُمَّ رَكَعَ فَرَكَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَالْآخَرُونَ قِيَامٌ يَحْرُسُونَهُمْ، فَلَمَّا قَامُوا سَجَدَ الْآخَرُونَ مَكَانَهُمُ الَّذِي كَانُوا فِيهِ، ثُمَّ تَقَدَّمَ هَؤُلَاءِ إِلَى مَصَافِّ هَؤُلَاءِ، فَرَكَعَ فَرَكَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ رَفَعَ فَرَفَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ وَالْآخَرُونَ قِيَامٌ يَحْرُسُونَهُمْ، فَلَمَّا سَجَدُوا وَجَلَسُوا سَجَدَ الْآخَرُونَ مَكَانَهُمْ، ثُمَّ سَلَّمَ»، قَالَ جَابِرٌ: كَمَا يَفْعَلُ أُمَرَاؤُكُمْ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ‘নাখ্ল’ নামক স্থানে ছিলাম। আর শত্রু বাহিনী আমাদের এবং কেবলার মধ্যবর্তী স্থানে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবির বললেন আর সবাই তাকবির বলল, অতঃপর তিনি রুকু করলেন এবং সবাই রুকু করল। অতঃপর নবী (ﷺ) সিজদা করলেন এবং তাঁর কাছে যারা ছিল তারাও সিজদা করল। আর অন্যদল দাঁড়িয়ে তাদের পাহারা দিচ্ছিল। যখন তারা দাঁড়িয়ে গেল, অন্য দল তাদের ঐ স্থানেই সিজদা করল যেখানে তারা ছিল।অতঃপর এরা তাদের কাতারবন্দী স্থানে সামনে অগ্রসর হলো। আর তিনি রুকু করলেন এবং সবাই রুকু করল। তিনি মাথা তুললেন, সবাই মাথা তুলল। অতঃপর নবী (ﷺ) সিজদা করলেন এবং ঐ কাতারও সিজদা করল যারা তাঁর কাছে ছিল। আর অন্যদল তাদের পাহারা দিচ্ছিল। যখন এরা সিজদা করল ও বসে গেল তখন অন্য দল তাদের জায়গায় সিজদা করে নিল। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, যেরূপ তোমাদের আমিরগণ করে থাকে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রাঃ নাখল নামক স্থানের ঘটনা বলেছেন। তখন শত্রু মুসলিমদের ও কেবলার মাঝখানে ছিল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকবির বললেন, সবাই তাকবির বলল। তিনি রুকু করলেন, সবাই রুকু করল। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم সিজদা করলেন এবং তাঁর কাছের কাতারও সিজদা করল। অন্যদল দাঁড়িয়ে পাহারা দিল। প্রথম দল দাঁড়ালে অন্য দল নিজ নিজ স্থানে সিজদা করল। এরপর কাতার অগ্রসর হলো। দ্বিতীয় রাকাতেও একই পদ্ধতি হলো—এক কাতার সিজদা করল, অন্য দল পাহারা দিল। শেষে রাসূল صلى الله عليه وسلم সালাম ফিরালেন। এ হাদিসে ভয়কালীন সালাতের মধ্যে কাতার, পাহারা, রুকু ও সিজদার সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শত্রু সামনে থাকলে পাহারা রেখে সালাত আদায় করা হয়েছে।
- রুকু সবাই একসাথে করেছে, সিজদায় পালাক্রম ছিল।
- কাতার অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগ হয়েছে।
- সালাত শেষে রাসূল صلى الله عليه وسلم সালাম ফিরিয়েছেন।
