১৮/১. অধ্যায়ঃ
হাদিস ১৫৪৩
আসরের ভয়কালীন সালাত: পালাক্রমে নামাজ ও পাহারার পদ্ধতি
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫৪৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৪৩
أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَذَكَرَ آخَرَ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَسْوَدِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يُحَدِّثُ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ: هَلْ صَلَّيْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْخَوْفِ؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: نَعَمْ، قَالَ: مَتَى، قَالَ: عَامَ غَزْوَةِ نَجْدٍ، «قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعَصْرِ وَقَامَتْ مَعَهُ طَائِفَةٌ وَطَائِفَةٌ أُخْرَى مُقَابِلَ الْعَدُوِّ وَظُهُورُهُمْ إِلَى الْقِبْلَةِ، فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرُوا جَمِيعًا الَّذِينَ مَعَهُ وَالَّذِينَ يُقَابِلُونَ الْعَدُوَّ، ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً وَاحِدَةً وَرَكَعَتْ مَعَهُ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ وَالْآخَرُونَ قِيَامٌ مُقَابِلَ الْعَدُوِّ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَامَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي مَعَهُ، فَذَهَبُوا إِلَى الْعَدُوِّ فَقَابَلُوهُمْ، وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلَ الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ كَمَا هُوَ، ثُمَّ قَامُوا فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً أُخْرَى وَرَكَعُوا مَعَهُ وَسَجَدَ وَسَجَدُوا مَعَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلَ الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ وَمَنْ مَعَهُ، ثُمَّ كَانَ السَّلَامُ فَسَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَلَّمُوا جَمِيعًا، فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَانِ وَلِكُلِّ رَجُلٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ»
মারওয়ান ইব্ন হাকাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন যে, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ভয়কালীন সালাত আদায় করেছিলেন? তখন আবু হুরাইরা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কখন? তিনি বললেন, নাজদের জিহাদের বছরে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাতে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে একটি দল দাঁড়াল। আর অন্য দল শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। আর তাদের পিঠ কেবলার দিকে ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবির বললেন। যারা তাঁর সাথে ছিল তারাও সকলেই তাকবির বলল। আর যারা শত্রুর মুখোমুখি ছিল তারাও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি রুকু আদায় করলেন এবং যারা তাঁর সাথে ছিল তারাও তাঁর সাথে একটি রুকু আদায় করল। তারপর তিনি সিজদা করলেন এবং যে দল তাঁর সাথে ছিল তাঁরাও সিজদা করল। আর দ্বিতীয় দল শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রইল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং যে দল তাঁর সাথে ছিল তারাও দাঁড়িয়ে গেল, শত্রুর অভিমুখে চলে গেল এবং তাদের মুখোমুখি হলো। আর যে দল শত্রুর মুখোমুখি ছিল তারা এল এবং রুকু ও সিজদা করল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেমন ছিলেন তেমনি দাঁড়িয়ে রইলেন। অতঃপর তারাও দাঁড়িয়ে গেল তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় আরও একটি রুকু করলেন, আর তারাও তাঁর সাথে একটি রুকু করল এবং তিনি সিজদা করলেন আর তারাও তাঁর সাথে সিজদা করল। অতঃপর ঐ দল এল যারা শত্রুর মুখোমুখি ছিল, তারা রুকু করল ও সিজদা করল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং যারা তাঁর সাথে ছিল তারা বসে থাকল। তারপর সালাম ফিরানো বাকী থাকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরালেন এবং সকলেই সালাম ফিরালো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুই রাকাত আদায় হয়েছিল আর উভয় দলের প্রত্যেকেরও দুই দুই রাকাত আদায় হয়েছিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা রাঃ নাজদের জিহাদের সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে ভয়কালীন সালাত আদায়ের ঘটনা বলেন। রাসূল صلى الله عليه وسلم আসরের সালাতে দাঁড়ালেন। একদল তাঁর সাথে সালাতে দাঁড়াল, আর অন্যদল শত্রুর মুখোমুখি থাকল। সবাই তাকবির বলল। যারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথে ছিল তারা তাঁর সাথে রুকু ও সিজদা করল। অন্যদল তখন পাহারায় রইল। পরে দল পরিবর্তন হলো। একদল দাঁড়িয়ে থাকল, অন্যদল এসে রুকু-সিজদা করল। শেষে রাসূল صلى الله عليه وسلم সালাম ফিরালেন এবং সবাই সালাম ফিরাল। এতে বোঝা যায়, ভয়ের সময় সালাত আদায়ে নিয়ম, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সতর্কতা একসাথে রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয়কালীন সালাতে সবাই নিজের অংশ পূর্ণ করেছে।
- সালাত ও নিরাপত্তা—দুটিই গুরুত্ব পেয়েছে।
- ইমামের সাথে তাকবির, রুকু ও সিজদার শৃঙ্খলা রাখা হয়েছে।
- দল বদলের মাধ্যমে পাহারা ও ইবাদত একসাথে চলেছে।
