১৬/১৪. অধ্যায়ঃ
অন্য আর এক প্রকার বিবরণ
গ্রহণ কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে নয়: সূর্যগ্রহণের সালাতের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৮৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৮৩
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْعَظِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ سَبَلَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَصَلَّى لِلنَّاسِ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ وَهُوَ دُونَ السُّجُودِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَفَعَلَ فِيهِمَا مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ يَفْعَلُ فِيهِمَا مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، وَإِنَّهُمَا لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِلَى الصَّلَاةِ»---[حكم الألباني] حسن صحيح
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগে গেল। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি দাঁড়ানোকে দীর্ঘ করলেন, তারপর রুকু’ করলেন এবং রুকু’ও দীর্ঘ করলেন। তারপর দাঁড়ালেন এবং দাঁড়ানোও দীর্ঘ করলেন কিন্তু তা আগের দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর রুকু’ করলেন এবং রুকু’ও দীর্ঘ করলেন, কিন্তু পূর্ববর্তী রুকু থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর সিজদা করলেন এবং সিজদাও দীর্ঘ করলেন। পরে তাঁর মাথা উঠালেন, পুনরায় সিজদা করলেন এবং সিজদাও দীর্ঘ করলেন কিন্তু তা পূর্ববর্তী সিজদা থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর দাঁড়ালেন ও দুই রাকাত পড়লেন এবং তাতেও পূর্বের মতো করলেন। অতঃপর দুটি সিজদা করলেন এবং তাতেও পূর্বের ন্যায় করলেন। এভাবে তিনি তাঁর সালাতসমাপ্ত করলেন।তারপর বললেন, সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। অবশ্যই কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে তাদের গ্রহণ হয় না। অতএব, তোমরা যখন তা দেখবে তখন শীঘ্রই আল্লাহর জিকির এবং সালাতের প্রতি ধাবিত হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সূর্যগ্রহণের সালাত এবং ভুল ধারণা দূর করা। বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, দীর্ঘ রুকু করেন, আবার দাঁড়ান, তবে দ্বিতীয় দাঁড়ানো প্রথমটির চেয়ে ছোট ছিল। এরপর আবার রুকু ও দীর্ঘ সিজদা করেন। সালাত শেষে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনের দুটি নিদর্শন। এগুলো কারও মৃত্যু বা জীবনের কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না। তাই যখন মানুষ এমন ঘটনা দেখবে, তখন আল্লাহর যিকর ও সালাতের দিকে ছুটে যাবে। এই হাদিস কুসংস্কার থেকে দূরে রেখে ইবাদতের দিকে ডাকে। সূর্যগ্রহণের নামাজ ও গ্রহণের সময় যিকর—দুটিই এখানে সহজভাবে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন।
- কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয়—এ ধারণা ভুল।
- গ্রহণ দেখলে সালাত ও যিকরের দিকে যাওয়া উচিত।
- গ্রহণের সালাতে কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করা হয়েছে।
