১৩/৬২. অধ্যায়ঃ

আর এক প্রকার দু'আ

কদরে সন্তুষ্টি, ইখলাস ও হিদায়াতের জন্য নববী দোয়া

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৩০৬

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ الْوَاسِطِيِّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ: صَلَّى عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ بِالْقَوْمِ صَلَاةً أَخَفَّهَا، فَكَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوهَا، فَقَالَ: أَلَمْ أُتِمَّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: أَمَا إِنِّي دَعَوْتُ فِيهَا بِدُعَاءٍ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو بِهِ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَكَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بِالْقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ»

কায়স ইবন উবাদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার আম্মার ইবন ইয়াসির (রাঃ) একদল লোক নিয়ে সালাত আদায় করলেন, যা তিনি সংক্ষেপ করে ফেললেন আর মুসল্লিরা যেন ওই সংক্ষিপ্তকরণকে খারাপ মনে করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি কি রুকু এবং সিজদা পরিপূর্ণরূপে আদায় করিনি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই! তখন তিনি বললেন, আমি তাতে এমন দোয়া পড়েছি যা নবী (ﷺ) পড়তেন। সে দোয়াটি হলো-اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَكَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بِالْقَضَاءِ وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ“আল্লাহুম্মা বি'ইলমিকাল গায়বা ওয়া কুদ্রতিকা আলাল খালকি আহয়িনী মা আলিমতাল হায়াতা খাইরাল্লি ওয়াতাওয়াফ্ফানী ইযা আলিমতাল ওয়াফাতা খাইরাল্লি ওয়া আসআলুকা খশিয়াতাকা ফিল গায়বি ওয়াশ্ শাহাদাতি ওয়া কালিমাতিল ইখলাসি ফির রিজা ওয়াল গযাবি ওয়া আসআলুকা নাঈমান লা ইয়ানফাদু ওয়া কুররাতা আয়ন্যিন লা তানকাতিঊ ওয়া আসআলুকার রিজা বিল কুযা-ই ওয়া বারদাল আয়শি বাদাল মওতি ওয়া লায্জাতান নাযারি ইলা ওয়াজহিকা ওয়াশ শাওকা ইলা লিকাইকা ওয়া আউযুবিকা মিন দারাআ মুদিররাতিন ওয়া ফিতনাতিম মুদিল্লাতিন। আল্লাহুম্মা জায়্যিন্না বিজীনাতিল ইমানি ওয়া জ্অা’লনা হুদাতান মুহতাদীন।”(হে আল্লাহ! তোমার নিকটেই আছে গায়েবের জ্ঞান, সকল সৃষ্টির ওপর তোমার ক্ষমতা আছে, তুমি যদি মনে কর বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর তবে আমাকে বাঁচিয়ে রাখ। আর তুমি যদি মনে কর মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর তবে আমার মৃত্যু ঘটাও। আমি প্রকাশ্যে ও গোপনে তোমাকে ভয় করার তাওফিক প্রার্থনা করছি, খুশি ও রাগের সময় ইখলাসের (একনিষ্ঠতার) বাক্য বলার তাওফিক প্রার্থনা করছি, আমি তোমার কাছে এমন নিয়ামত (অনুগ্রহ) চাই যা শেষ হবে না। আমি তোমার কাছে চাই এমন চক্ষুশীতলকারী (নিয়ামত) যা বিচ্ছিন্ন হবে না। আমি তোমার সন্তুষ্টি চাই কদরের ওপর, মৃত্যুর পরে আরাম-আয়েশের শীতলতা চাই, আমি তোমার চেহারার দিকে দৃষ্টির আস্বাদ পেতে চাই, তোমার সাক্ষাতে পৌঁছার বাসনা করি। আমি সকল ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ঈমানের সাজে সজ্জিত করো। আর আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্তদের পথের পথিক করো।)

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩০৬-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়—ইখলাস ও সন্তুষ্টি। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) একটি সালাত সংক্ষেপে আদায় করলে মুসল্লিরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, রুকু ও সিজদা পূর্ণ করেছেন কি না। তারা স্বীকার করেন যে তিনি তা পূর্ণ করেছেন। এরপর তিনি জানান, সালাতে এমন একটি দোয়া পড়েছেন যা নবী (صلى الله عليه وسلم) পড়তেন। দোয়াটিতে জীবন কল্যাণকর হলে বাঁচিয়ে রাখা এবং মৃত্যু কল্যাণকর হলে মৃত্যু দেওয়ার আবেদন রয়েছে। প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহভীতি এবং খুশি ও রাগের সময়ে ইখলাসের বাক্য বলার তাওফিক চাওয়া হয়েছে। শেষ না হওয়া নিয়ামত, স্থায়ী প্রশান্তি, আল্লাহর নির্ধারণে সন্তুষ্টি ও মৃত্যুর পর শান্ত জীবনও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর বিপদ ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আশ্রয় এবং ঈমানের সৌন্দর্য ও হিদায়াতের আবেদন রয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাত সংক্ষিপ্ত হলেও রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করা হয়েছে।
  • খুশি ও রাগের সময়েও ইখলাসের বাক্য বলার তাওফিক চাওয়া হয়েছে।
  • আল্লাহর ফয়সালা ও কদরের প্রতি সন্তুষ্টি চাওয়া যায়।
  • ক্ষতিকর বিপদ ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আশ্রয় নিতে হয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন