১৩/৫৯. অধ্যায়ঃ
যিক্রের পর দু'আ করা
গুনাহ মাফের দোয়া: আল্লাহর একত্ব স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৩০১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৩০১
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ أَبُو بُرَيْدٍ الْبَصْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَنْظَلَةُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَّ مِحْجَنَ بْنَ الْأَدْرَعِ حَدَّثَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ، إِذَا رَجُلٌ قَدْ قَضَى صَلَاتَهُ وَهُوَ يَتَشَهَّدُ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا أَللَّهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ غُفِرَ لَهُ»، ثَلَاثًا
মিহজান ইব্ন আদরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদিন) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, এক ব্যক্তি তাশাহহুদ পড়ে সালাত শেষ করার সময় বলল- "আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইয়া আল্লাহু বিআন্নাকাল ওয়াহিদুল আহাদুস সামাদাল্লাযি লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহ কুফুওয়ান আহাদুন আন তাগফিরা লি যুনূবি, ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রহিম।" (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, হে একক ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহ! যিনি জনক নন, জাতকও নন [তিনি কাউকে জন্ম দেননি আবার কারো থেকে তিনি জন্মও নেননি] এবং যার সমকক্ষ কেউ নেই, তুমি আমার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দাও, নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল দয়াবান।)।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন।অধ্যায়-৫৯/১: আর এক প্রকার দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩০১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়—ক্ষমা প্রার্থনা। এই হাদিসে এক ব্যক্তি সালাতের শেষ সময়ে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের দোয়া করেন। তিনি প্রথমে আল্লাহকে একক, অমুখাপেক্ষী ও অতুলনীয় হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ কাউকে জন্ম দেননি, কারও থেকে জন্মও নেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। এরপর তিনি নিজের গুনাহ ক্ষমা করার আবেদন করেন এবং আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও দয়াবান বলে ডাকেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার দোয়া শুনে তিনবার বলেন যে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সালাতের দোয়ায় আল্লাহর একত্ব ও মহান গুণের কথা উল্লেখ করে আন্তরিকভাবে গুনাহ মাফ চাওয়া। এখানে দোয়ার ভাষায় তাওহীদ, বিনয় এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার সুন্দর মিল দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ একক, অমুখাপেক্ষী এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই—দোয়ায় এই বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে।
- সালাতের শেষ সময়ে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।
- আল্লাহকে তাঁর ক্ষমাশীল ও দয়াবান গুণের মাধ্যমে ডাকা হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ওই ব্যক্তির ক্ষমা লাভের কথা তিনবার বলেছেন।
