১৩/৫২. অধ্যায়ঃ
আর এক প্রকার (দরূদ)
দরুদ পড়ার নিয়ম: নবী صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের জন্য রহমত-বরকত
সুনানে নাসাঈ : ১২৯০
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১২৯০
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُجَمِّعُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ الصَّلَاةُ عَلَيْكَ؟ قَالَ: " قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ "
তালহা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর দরুদ কিভাবে পাঠ করতে হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা বলবে-"আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। ওয়াবারিক ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বারকতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।"(হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। আর তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ কর। যেমন তুমি ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর বংশধরের ওপর বারাকাত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত)।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ১২৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরুদ পাঠ। সাহাবিরা সরাসরি জানতে চান, তাঁর ওপর দরুদ কীভাবে পাঠ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উত্তরে পূর্ণ একটি দোয়া শেখান। সেখানে আল্লাহর কাছে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত চাওয়া হয়, যেমন ইবরাহিম আঃ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত দেওয়া হয়েছে। এরপর মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত চাওয়া হয়, যেমন ইবরাহিম আঃ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দেওয়া হয়েছে। শেষে বলা হয়, আল্লাহ প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। এই হাদিস দরুদে ইবরাহিমের শব্দ ও অর্থ দুটিই পরিষ্কার করে। এর মূল বার্তা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য রহমত ও বরকত চাইতে হবে আল্লাহর কাছেই এবং তাঁর শেখানো ভাষায়। অর্থ বুঝে পড়লে দরুদ পাঠ আরও মনোযোগী ও হৃদয়গ্রাহী হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে দরুদ শেখান।
- দরুদে নবী صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবারের জন্য রহমত চাওয়া হয়।
- একই দোয়ায় তাঁদের জন্য বরকতও চাওয়া হয়।
- আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা স্বীকার করে দরুদ শেষ হয়।
