১৩/২০. অধ্যায়ঃ
সলাতে কথা বলা
সালাতে কথা বন্ধ ও বিনীতভাবে দাঁড়ানোর নির্দেশ
সুনানে নাসাঈ : ১২১৯
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১২১৯
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: " كَانَ الرَّجُلُ يُكَلِّمُ صَاحِبَهُ فِي الصَّلَاةِ بِالْحَاجَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238]، فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ "
যায়দ ইব্ন আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় লোকজন সালাতে তাঁর সঙ্গীর সাথে কোন প্রয়োজনে কথা বলতো, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো,(حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) “তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ২৩৮)।তখন আমাদের (সালাতে) চুপ থাকতে আদেশ করা হলো।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ১২১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সালাতে নীরব থাকা। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে প্রথম দিকে মানুষ সালাতের মধ্যে প্রয়োজন হলে পাশের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলত। এরপর সূরা আল-বাকারাহর ২৩৮ নম্বর আয়াত নাজিল হয়: সালাতগুলোর যত্ন নাও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের, এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও। তখন সালাতে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। “নামাজে কথা বলা নিষেধ”, “সালাতে নীরবতা” এবং “কানিতীন আয়াতের হাদিস” বিষয়ে এটি সরাসরি প্রমাণ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিধানের পরিবর্তনের ধারাটি: আগে কথা হতো, পরে নীরবতার নির্দেশ এলো। তাই এই বর্ণনাকে বর্তমান সালাতে কথাবার্তার অনুমতি হিসেবে পড়া ঠিক নয়। হাদিসটি আল্লাহর সামনে মনোযোগী, সংযত ও নীরব অবস্থানের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে কথা বলার আগের অভ্যাস পরে নীরবতার নির্দেশে বন্ধ করা হয়।
- আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়ানোর আয়াতের সঙ্গে এই নির্দেশ যুক্ত।
- সালাতের যত্নের অংশ হলো অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা।
