১২/১০০. অধ্যায়ঃ
প্রথম তাশাহ্হুদ কিভাবে করবে?
তাশাহুদের পর দোয়া করার নিয়ম ও আত্তাহিয়্যাতু
সুনানে নাসাঈ : ১১৬৩
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১১৬৩
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَقَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا لَا نَدْرِي مَا نَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ غَيْرَ أَنْ نُسَبِّحَ وَنُكَبِّرَ وَنَحْمَدَ رَبَّنَا، وَإِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَ فَوَاتِحَ الْخَيْرِ وَخَوَاتِمَهُ، فَقَالَ: " إِذَا قَعَدْتُمْ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، فَقُولُوا: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَلْيَتَخَيَّرْ أَحَدُكُمْ مِنَ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَلْيَدْعُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ "
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা জানতাম না, আমরা প্রত্যেক দুই রাকাতে কি বলব এ ব্যতীত যে, আমরা তাসবীহ পড়তাম, তাকবির বলতাম, আর আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসা করতাম এবং বলতাম যে, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে এমন কথা শিক্ষা দেয়া হয়েছে যার শুরু ও শেষ কল্যাণময়। তখন তিনি বললেন, দুই রাকাতের পরে তোমরা বসে বলবে- “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সালাওয়াতু ওয়াত্তইয়িবাতু, আস্সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু, ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্সালিহীন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ” (সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।)।আর যার যে দোয়া ভালো লাগে সে সেই দোয়া (পড়ার জন্যে) নির্বাচন করবে, এরপর আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করবে।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ১১৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবিদের আগের অবস্থা এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা পাশাপাশি এসেছে। তাঁরা প্রতি দুই রাকাতে কী বলবেন তা জানতেন না; তাসবিহ, তাকবির ও রবের প্রশংসা করতেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের পূর্ণ তাশাহুদ শিখিয়ে দেন। এতে আল্লাহর জন্য সম্মান, ইবাদত ও পবিত্র বিষয় ঘোষণা, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর সালাম, নিজের ও নেক বান্দাদের জন্য সালাম এবং তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য রয়েছে। এরপর হাদিসটি আরেকটি স্পষ্ট সুযোগ দেয়: যে দোয়া ভালো লাগে, তা বেছে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাই তাশাহুদের পর দোয়া সম্পর্কে এই বর্ণনা খুবই সরাসরি। তবে এখানে কোনো নির্দিষ্ট দোয়ার তালিকা দেওয়া হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, বৈঠকের নির্ধারিত তাশাহুদ শেষ করে আল্লাহর কাছে পছন্দের দোয়া করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতি দুই রাকাতের বৈঠকে পূর্ণ তাশাহুদ পড়ার শিক্ষা রয়েছে।
- তাশাহুদে আল্লাহর একত্ব ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া হয়।
- তাশাহুদের পর পছন্দের দোয়া বেছে আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়।
- হাদিসে নির্দিষ্ট অতিরিক্ত দোয়া বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়নি।
