১২/৮২. অধ্যায়ঃ
এক সাজদাহ্ অন্য সাজদাহ্ হতে দীর্ঘ হওয়া
দীর্ঘ সিজদা ও শিশুর প্রতি নবীজির কোমল আচরণ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১৪১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১৪১
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ الْبَصْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي إِحْدَى صَلَاتَيِ الْعِشَاءِ وَهُوَ حَامِلٌ حَسَنًا أَوْ حُسَيْنًا، فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ لِلصَّلَاةِ فَصَلَّى فَسَجَدَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ صَلَاتِهِ سَجْدَةً أَطَالَهَا، قَالَ أَبِي: فَرَفَعْتُ رَأْسِي وَإِذَا الصَّبِيُّ عَلَى ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ سَاجِدٌ فَرَجَعْتُ إِلَى سُجُودِي، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ قَالَ النَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ سَجَدْتَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ صَلَاتِكَ سَجْدَةً أَطَلْتَهَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ أَوْ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْكَ، قَالَ: «كُلُّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ وَلَكِنَّ ابْنِي ارْتَحَلَنِي فَكَرِهْتُ أَنْ أُعَجِّلَهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ»
শাদ্দাদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ইশার সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে বের হয়ে আসলেন। তখন তিনি হাসান অথবা হুসাইন (রাঃ)-কে বহন করে আনছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে তাঁকে রেখে দিলেন। এরপর সালাতের জন্য তাকবীর বললেন ও সালাতে রত হলেন। সালাতের মধ্যে একটি সিজদা দীর্ঘ করলেন।(হাদিসের অন্যতম রাবি আবদুল্লাহ বলেন) আমার পিতা (শাদ্দাদ) বলেন, আমি আমার মাথা তুললাম এবং দেখলাম, ঐ ছেলেটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিঠের উপর রয়েছেন। আর তিনি সিজদারত। অতঃপর আমি আমার সিজদায় গেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করলে লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার সালাতের মধ্যে একটি সিজদা এত দীর্ঘ করলেন যাতে আমরা মনে করলাম, হয়তো কোন ব্যাপার ঘটে থাকবে। অথবা আপনার ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে। তিনি বললেন, এর কোনটাই ঘটেনি বরং আমার ঐ সন্তান আমাকে সওয়ারি বানিয়েছিল। আমি তাড়াতাড়ি উঠতে অপছন্দ করলাম, যাতে সে তার কাজ সমাধা করতে পারে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইশার সালাতে হাসান অথবা হুসাইন (রাঃ)-কে সঙ্গে করে আনেন। সালাতের সময় শিশুটি তাঁর পিঠে উঠে বসে। তখন তিনি সিজদা দীর্ঘ করেন। সাহাবিরা ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেছে বা ওহী নাযিল হচ্ছে। সালাত শেষে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, এর কোনোটিই ঘটেনি। শিশুটি তাঁকে সওয়ারি বানিয়েছিল, আর তিনি তাড়াতাড়ি উঠতে চাননি, যাতে শিশুটি নিজের কাজ শেষ করতে পারে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো শিশুর প্রতি কোমলতা, ধৈর্য এবং সালাতে অযথা আতঙ্কিত না হওয়া। দীর্ঘ সিজদার কারণটি ছিল মানবিক ও মমতাপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শিশুর স্বাভাবিক আচরণকে কঠোরভাবে থামাননি; বরং শান্তভাবে অপেক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে সাহাবিরা কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে সালাত শেষে কারণ জিজ্ঞেস করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর স্বাভাবিক আচরণের প্রতি ধৈর্য ও কোমলতা দেখানো উচিত।
- অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে অনুমান না করে সঠিক কারণ জেনে নেওয়া ভালো।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শিশুটির সুবিধার জন্য সিজদা দীর্ঘ করেছিলেন।
- সালাতের ঘটনাটি সাহাবিদের কাছে পরিষ্কার করে বলা হয়েছিল।
