১২/৬৯. অধ্যায়ঃ
অন্য প্রকার দু'আ
তাহাজ্জুদের সিজদায় আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১২৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১২৮
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ حِمْيَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ـ وَذَكَرَ آخَرَ قَبْلَهُ ـ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الْأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي تَطَوُّعًا قَالَ إِذَا سَجَدَ: «اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ»
মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাতে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নফল সালাতে দাঁড়াতেন, তখন সিজদায় বলতেন-«اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ»(আল্লাহুম্মা লাকা সিজদাতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়ালাকা আসলামতু, আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী, সিজদা ওয়াজহী লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া স্বাওয়্বারাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন।)(হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য সিজদা করেছি, আমি তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, আমি তোমার নিকটেই আত্মসমর্পণ করেছি, তুমি আমার রব। আমার মুখমণ্ডল তাঁর উদ্দেশে সিজদাবনত হল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন ও আকৃতি দান করেছেন এবং তার চক্ষু ও কর্ণকে উদ্ভাসিত করেছেন। সুতরাং সুনিপুণ স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান!)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিশেষভাবে রাতের নফল সালাতের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যখন রাতে স্বেচ্ছা সালাতে দাঁড়াতেন, তখন সিজদায় আল্লাহর জন্য নত হওয়ার, তাঁর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণের দোয়া পড়তেন। তিনি আল্লাহকে নিজের রব বলে স্বীকার করতেন। এরপর নিজের মুখমণ্ডল সম্পর্কে বলতেন, এটি সেই সত্তার সামনে সিজদা করেছে, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, আকৃতি দিয়েছেন এবং কান ও চোখ সৃষ্টি করেছেন। শেষে আল্লাহকে সেরা স্রষ্টা হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়। তাই ‘তাহাজ্জুদের সিজদার দোয়া’ হিসেবে এই বর্ণনা খুবই স্পষ্ট। এখানে রাতের সালাত, সিজদা, ঈমান এবং আল্লাহর সৃষ্টি স্মরণের শিক্ষা একত্রে রয়েছে। দোয়াটি অর্থ বুঝে পড়লে মুসল্লি নিজের দেহ, বিশ্বাস এবং আনুগত্য—সবকিছুকে আল্লাহর সামনে সমর্পণের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের নফল সালাতে সিজদার বিশেষ দোয়া পড়ার বর্ণনা রয়েছে।
- দোয়ায় আল্লাহর জন্য সিজদা, ঈমান ও আত্মসমর্পণ প্রকাশ করা হয়েছে।
- নিজের চোখ, কান ও চেহারার স্রষ্টাকে স্মরণ করা হয়েছে।
- আল্লাহকে নিজের রব বলে স্বীকার করা দোয়ার কেন্দ্রীয় অংশ।
