১২/৬৬. অধ্যায়ঃ
সাজদায় অন্য প্রকার দু'আ
রব্বিগফিরলী: গোপন ও প্রকাশ্য অপরাধ ক্ষমার দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১২৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১২৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ أَتَى بَعْضَ جَوَارِيهِ، فَطَلَبْتُهُ فَإِذَا هُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে না পেয়ে মনে করলাম তিনি হয়ত তাঁর কোন দাসীর কাছে গিয়ে থাকবেন।তাঁকে খুঁজে দেখলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন- “রব্বিগফির্লী মা আসরার্তু ওয়া মা আ'লান্তু” (হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত অপরাধ ক্ষমা কর)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে খুঁজে সিজদারত অবস্থায় পান। তিনি তখন বলছিলেন, ‘রব্বিগফির লি মা আসরারতু ওয়া মা আ’লানতু।’ এর সহজ অর্থ হলো, হে আমার রব, আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে যা করেছি, তা ক্ষমা করুন। এই সিজদার দোয়া খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু মানুষের কাজের দুইটি বড় দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। কিছু ভুল কেবল আল্লাহ জানেন, আবার কিছু ভুল মানুষের সামনে প্রকাশ পায়। রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর দোয়ায় উভয়ের জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তাই ‘গুনাহ মাফের দোয়া’ বা ‘সিজদায় কী দোয়া পড়ব’ এমন প্রশ্নের সঙ্গে এই হাদিস সরাসরি সম্পর্কিত। বর্ণনায় কোনো দীর্ঘ ব্যাখ্যা নেই; মূল শিক্ষা পরিষ্কার—সিজদায় নিজের রবকে ডেকে ভুলের ক্ষমা চাইতে হবে। এতে বান্দার বিনয়, আত্মজবাবদিহি ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মন প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে ‘রব’ বলে ডেকে নিজের ভুলের ক্ষমা চাওয়া যায়।
- গোপন ও প্রকাশ্য সব অপরাধ দোয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
- সিজদার সময় সংক্ষিপ্ত ভাষায় আন্তরিক ইস্তিগফার করা যায়।
- নিজের ভুল স্বীকার করা বান্দার বিনয়ের প্রকাশ।
