১২/২৫. অধ্যায়ঃ
রুকূ' হতে দাঁড়িয়ে যা বলবে
রাতের সালাতে রুকু-সিজদার যিকর ও নবীজির স্থিরতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০৬৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৬৯
أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَبْسٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَسَمِعَهُ حِينَ كَبَّرَ قَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ ذَا الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ»، وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ»، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: «لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ»، وَفِي سُجُودِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى»، وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ: «رَبِّي اغْفِرْ لِي، رَبِّي اغْفِرْ لِي»، وَكَانَ قِيَامُهُ وَرُكُوعُهُ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَسُجُودُهُ وَمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ
হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করেন। তিনি যখন তাকবির বললেন, তখন তাঁকে বলতে শুনলেন-اللَّهُ أَكْبَرُ ذَا الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ"আল্লাহ মহান, যিনি প্রবল, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, গর্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী।"আর তিনি রুকুতে বলতেন- “সুবহানা রব্বিয়াল আজীম”, আর যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন তখন বলতেন- "লিরব্বিল হামদু লিরব্বিল হামদু”, আর তিনি সিজদায় গিয়ে বলতেন- “সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা-", আর দুই সিজদার মধ্যে বলতেন- “রব্বিগফিরলি রব্বিগফিরলি”, আর তাঁর কিয়াম আর রুকু হতে যখন মাথা উঠাতেন সে সময়, আর তাঁর সিজদা আর দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় সমান সমান হত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক রাতের সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কয়েকটি যিকর ও সালাতের স্থিরতা একসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। তাকবিরের সময় তিনি আল্লাহর প্রবল ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, মহত্ত্ব ও মর্যাদা স্মরণ করেন। রুকুতে বলেন, ‘সুবহানা রব্বিয়াল আজীম’; রুকু থেকে উঠে বলেন, ‘লিরব্বিল হামদ’; সিজদায় বলেন, ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’; আর দুই সিজদার মাঝে বলেন, ‘রব্বিগফিরলি।’ বর্ণনায় আরও এসেছে, তাঁর কিয়াম, রুকু, রুকুর পর দাঁড়ানো, সিজদা এবং দুই সিজদার মাঝের বসা প্রায় কাছাকাছি সময়ের ছিল। তাই হাদিসটি নামাজের দোয়া ও তাসবিহ শেখানোর পাশাপাশি ধীরস্থির সালাতের ছবিও তুলে ধরে। প্রতিটি অবস্থায় উপযোগী যিকর বলা এবং কোনো রুকন তাড়াহুড়া করে শেষ না করা—এই বর্ণনার প্রধান শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকুতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আজীম’ বলা হাদিসে বর্ণিত।
- সিজদায় ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’ এবং দুই সিজদার মাঝে ‘রব্বিগফিরলি’ বলা হয়েছে।
- রুকু থেকে ওঠার পর আল্লাহর হামদ করা হয়েছে।
- সালাতের বিভিন্ন অবস্থায় নবী (صلى الله عليه وسلم) ধীরস্থির ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিলেন।
