১২/২৩. অধ্যায়ঃ
মুক্তাদীর "রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ" বলা
রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ বলার নিয়ম ও ক্ষমার সুসংবাদ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০৬৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৬৩
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا قَالَ الْإِمَامُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যখন ইমাম “সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ” (যে বান্দা আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা করে আল্লাহ তার হামদ শ্রবণ করেন) বলেন, তখন তোমরা “রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ” (হে আমাদের পালনকর্তা! আর প্রশংসা তোমারই জন্যে) বলবে। কেননা, যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে, তাঁর পূর্বকৃত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাতে সালাতের একটি নির্দিষ্ট যিকর ও তার ফজিলত বলা হয়েছে। ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদিরা ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলবে। অর্থাৎ রুকু থেকে ওঠার সময় ইমাম ও পেছনের মুসল্লির উচ্চারণ এক নয়; প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত বাক্য রয়েছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যার কথা ফেরেশতাদের কথার সঙ্গে মিলে যাবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। তাই ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ শুধু মুখে বলার একটি বাক্য নয়; এটি আল্লাহর প্রশংসা এবং ক্ষমার আশার সঙ্গে যুক্ত একটি আমল। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইমামের অনুসরণ করে সঠিক সময়ে এই হামদ বলা। বর্ণনায় যতটুকু এসেছে, ততটুকু ধরে বলা যায়—এই মিল হওয়া ক্ষমা লাভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে মুক্তাদি ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলবে।
- সালাতের যিকর সঠিক সময়ে বলা হাদিসে শেখানো হয়েছে।
- ফেরেশতাদের কথার সঙ্গে মিল হলে পূর্বের গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ এসেছে।
- আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমার আশা এই ছোট যিকরের মধ্যে একত্র হয়েছে।
